নভেম্বর 20, 2017

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ‘কলোনিয়াল’ বিল্ডিং ভাঙা প্রসঙ্গে

বিলেতিরা বাংলাকে প্রশাসনিক কারণে ভাগ করেছিল ১৯০৫ সালে। পরে সেটা বাতিল করেছিল ১৯১১ তে। মধ্যবর্তী এই সময়টাতে পূর্ববাংলাকে নিয়ে কিছু পরিকল্পনা করা সম্ভব হয়ে ওঠে। কিছু চেষ্টাও ছিল, সে লোক দেখানো হলেও। তখনকার সাম্রাজ্যবাদী সরকার এই সময়ে তাই বেশ কিছু বিল্ডিং বানিয়েছিল বা তাদেরকে বানাতে হয়েছিল। তার অনেকগুলোই তৎকালীন পূর্ববাংলার রাজধানী ঢাকাতে। আমাদের আলোচ্য বিল্ডিংও এমনই একটা বিল্ডিং।
যতদূর জানা যায় কৃষি ভারতবর্ষের প্রধান উৎপাদন মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও সাম্রাজ্যবাদী বিলেতি সরকার কখনো এর পেছনে মনোযোগ দিতে চাইনি। লর্ড হিউমে ব্যক্তিগত উৎসাহ, ম্যানচেস্টারের কাপড়-কারখানাগুলোতে মার্কিন তুলার সর্বাহ কমে যাওয়ার ফলে ভারত থেকে তুলা উৎপাদন ক’রে আনার চিন্তা, খানিকটা বিলেতি কারখানা-মালিকদের দাবি আর নানা দুর্ভক্ষের অভিজ্ঞতার কারণে সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ-সরকার কৃষি গবেষণার পেছনে কিছু খরচ করতে উদ্যোগী হয়। তারই ফলশ্রুতিতে পূর্ববাংলা আর পাঞ্জাবে খামার বানানো হয়। গবেষণাগার যা কিছু বানানো হয় তার সবই পাঞ্জাবে। পূর্ব-বাংলাতে ফসলের নমুনা বীজ সংগ্রহের জন্য একটা বিল্ডিং বানানো হয়।
সন্দেহ নেই বিল্ডিংটা মনোহর। আবার বিলেতিরা চলে যাওয়ার ৭০ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা সেই বিল্ডিংটার কোনো ডকুমেন্টেশন করতে পারিনি। না আমাদের কোনো স্থাপত্য ইনিস্টিটিউট, না আমাদের পাবলিক ওয়ার্ক ডিপার্টমেন্ট, না আর্কিওলজি ডিপার্টমেন্ট – কেউ নয়। বিল্ডিংটার প্রতি আমাদের মহব্বত কতটা তা জানার জন্য এই তথ্যটাই যথেষ্ট নয় কি? এমনকি নাজিমুদ্দিন আহমেদের “বিল্ডিংস অব দ্য ব্রিটিশ রাজ ইন বাংলাদেশ” বইটিতেও বিল্ডিংটির কোনো উল্লেখ নেই। ঢাকার পুরনো কোন কোন বিল্ডিংগুলো সংরক্ষণ করতে হবে তার যত তালিকা দেখি সেখানেও এর উল্লেখ চোখে পড়েনি।
বিলেতিরা তেজগাঁও এলাকাতে যে খামারটা গড়ে তুলেছিল তা বিলতিরা চলে যাওয়ার ৬ বছর পরই তখনকার পাকিস্তান সরকার নষ্ট করে তাকে তেজগাঁও শিল্প এলাকাতে রূপান্তর করে ফেলে। কিছু অংশ শের-ই-বাংলা নগরের গহ্বরে চলে যায়। তাতে এলাকটার চেহারা যে আমূল পালটে যায় তাতে সন্দেহ নেই। সেই পাল্টানোর ব্যাপারটা এখনো চলমান। ভাঙাভাঙির সেটা একটা কারণ বটে।
কারণ আরো আছে। সময়। প্রয়োজন। অর্থনীতি। আর অবশ্যই কারো কারো অবহেলা, অমনোযোগ। মামনুন মুর্শেদ চৌধুরী ১৬ই নভেম্বর ২০১৭ তে ইংরেজী পত্রিকা ‘দ্য ডেইলি স্টারে’ ঢাকার পুরনো বিল্ডিং ভাঙা নিয়ে লিখেছেন দেখলাম। ওনার লেখা থেকে একটু উদ্ধৃত করি…
“A demolition team, engaged by the Public Works Department, was razing to the ground a magnificent edifice built in 1909 for agricultural research, known as the Laboratory—the first of its kind in this part of Bengal.”
বিল্ডিংটাকে এতটা গ্লোরিফাই করতে এর আগে আমি শুনিনি। আহারে বিল্ডিংটা। এ ছাড়া আর কী-ই বা বলার থাকতে পারে? সমস্ত রেকিং-বল প্রস্তুত হয়ে তার কাজ শুরু ক’রে দেয়ার পর তাকে আটকানো সহজ নয়।

Advertisements
নভেম্বর 18, 2017

আকাঙ্ক্ষা

কখনো কখনো আকাঙ্ক্ষাদেরকে সয়ম্ভু ব’লে মনে হতো। মনে হতো ওদের উপর আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সেই যে বড় হ’য়ে বাদামওয়ালা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা – তার জন্ম যে আমার হাতে ছিলো না- তা বলাই যায়। এমন সয়ম্ভু আকাঙ্ক্ষারা মাঝে মাঝেই আসে, আবার চলেও যায়। মাঝে মাঝে তাদের স্মৃতির ভিড় থেকে কেউ কেউ হয়তো আবার উঁকিও মারে। তাতে তাদের পুনর্জন্ম হয় না কখনো। অথচ আকাঙ্ক্ষারা তো এতটা নখদন্তহীন হওয়ার কথা নয়। তাদের তো হওয়ার কথা সর্বপ্লাবী। আকাঙ্ক্ষা যদি তাড়িয়ে না বেড়ায়, তবে তা কেমন আকাঙ্ক্ষা? ক্ষণিকের মোহকে আকাঙ্ক্ষা নামে ডেকে তাকে উপহাস করাই বা কেন?

জানি আকাঙ্ক্ষারও মৃত্যু আছে। যে মানুষটাকে লতিয়ে পেচিয়ে আকাঙ্ক্ষার বেড়ে ওঠা সে-ই শেষ পর্যন্ত তার নিয়ন্তা। হয়তো কখনো সচেতন ভাবে, হয়তো কখনো অচেতন ভাবে। তবে আকাঙ্ক্ষার বেড়ি কারো গায়ে জড়িয়ে গেলে তা যে তাকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে তা ভাবনার খোরাক দেয় বটে, তবে সমাধান দেয় কিনা কে জানে। বাস্তববাদী কোনো মানুষকে যদি কখনো অসম্ভব কোনো আকাঙ্ক্ষায় পেয়ে বসে তখন তার ভেতর নিশ্চয় একধরণের দোটানা কাজ করে। যে বাস্তবিক অভ্যাসগুলো মানুষটাকে চরিত্র দিয়েছে, হয়তো স্থিতিও দিয়েছে, তার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসাটাও কম ঝক্কির নয়। বা সেই বৃত্তের ভেতরে থেকে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও এক ধরণের বাস্তবতা বৈকি।

আকাঙ্ক্ষাকে তাই প্রতিনিয়ত বাস্তবতার সাথে যুধতে হয়। নিদেন পক্ষে একটা বোঝাপড়া করতে হয়। যে বোঝাপড়াতে সময়ের প্রভাবটা বড্ড প্রকট। যে সময় বড্ড নিষ্ঠুর এক হত্যাকারী। স্মৃতি, আকাঙ্ক্ষা, নক্ষত্র – কারো মুক্তি নেই সময়ের হিংস্র কবল থেকে। তাই মানুষের সাথে আকাঙ্ক্ষাদের জড়িয়ে যাওয়ার প্রকৃতি সময়ের সাথে সাথে পালটেও যায়। এই সে সিথিল হয়ে আসে তো এই আবার জাপটে ধরে, যেন বা মৃত্যুতেও আর আলাদা হতে না পারে। সংগঠিত আকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে এমনটা বোধকরি বেশি দেখা যায়। এই দেখি ফুসে ওঠে, তো এই দেখি আবার হাওয়ায় মিলায়। কম কুহকিনী নয় এমনতর আকাঙ্ক্ষারা।

হয়তো জাগিয়ে তোলার শক্তি নিয়ে বেড়ে ওঠা যে আকাঙ্ক্ষার সে-ই সময়ের নিগড়ে কখনো কখনো নিঃশেষিত করার কারণ হয়। তখন তাকে আস্তাকুড়ে ফেলে দিলেই যে তাকে অস্বীকার করা হয় তা তো নয়। কারণ সে যে তখন নতুন কোনো আকাঙ্ক্ষার জ্বালানী। অনুপস্থিত থেকেও যে আসলে এক ধরণের বাস্তবতা।

অক্টোবর 21, 2017

নগরী ঢাকা-৬

নগরী হিসেবে ঢাকার আয়তন বাড়ছে। বাড়ছে বেশ দ্রুতই। আর সেটা প্রায় সব দিকেই। আজ শুধুই চোখ বুলানোর মতো ক’রে ঢাকার উত্তর আর পূর্ব দিকের বেড়ে ওঠার ছবি দেখবো। ছবিগুলো গুগল ম্যাপ থেকে নেয়া। ইট ভাটাগুলোর ছবি নেয়া অক্টবরের ১০ তারিখে। ঢাকা, পূর্বাচল আর উত্তরা থার্ড-ফেইজের ছবিগুলো নেয়া অক্টবরের ২১ তারিখে। অর্থাৎ আজই। সকল ছবির উপরের দিকটি উত্তর দিক।

শুরুতেই প্রথম ছবিটা দেখে নিই। এতে পূর্বাচল, জলসিড়ি আবাসন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা আর উত্তরা থার্ড-ফেইজের অবস্থান এবং বেড়ে ওঠা বেশ স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে।

Expanding Dhaka 01

ঢাকার উত্তর আর পূর্ব দিকের স্যাটেলাইট ভিউ : ২১.১০.১৭ তারিখে নেয়া

 উত্তরা থর্ড-ফেইজ একটি মিশ্র-ডিভেলপমেন্ট এরিয়া। অর্থাৎ এখানকার প্লটগুলো বিভিন্ন ধারণের ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে করা হয়েছে। সরকারীভাবে বা রাজউকের উদ্যোগে বেশ বড় আকারে হাউজিং প্রকল্প করা হচ্ছে এখানে। একটা ব্লকের এ্যাপার্টমেন্ট-বিল্ডিংগুলোর অনেকগুলোরই নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। যদিও এই হাউজিংকে সাপোর্ট দেয়ার মতো প্রকল্পগুলোর নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি এখনো। অনেকগুলো প্লট রাখা হয়েছে ইন্সটিটিউশনাল। কিছু কিছু বরাদ্দ দিয়েও দেয়া হয়েছে। যেমন বিজিএমইএ। তাদেরকে ১১০ কাঠার একটা প্লট দেয়া হয়েছে। তারা সেখানে নির্মাণ কাজও শুরু করেছে। যদিও রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প সংশ্লিষ্ট স্থপতির নাম সেখানে প্রদর্শন করা হচ্ছে না। ধারণা করা যায় আবারো অবৈধ উপায়ে বিজিএমইএ কোনো বিল্ডিং নির্মাণ করছে। রাজউক হয়তো দেখেও দেখছে না।

এবার একটু চোখ দিই পূর্বাচলের দিকে। নিসন্দেহে এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শহর-উন্নয়ন প্রকল্প। বেশিরভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে এই প্রকল্পের একটা অদ্ভুত ব্যতিক্রম হলো, এটা কোনো নিচু এলাকাতে বালি-ভরাট ক’রে গড়ে তোলা হচ্ছে না। এই এলাকাটা প্রাকৃতিকভাবেই উঁচু জায়গা ছিলো। উন্নয়নের জন্য বরং বিভিন্ন স্থানের মাটি কেটে নিচু ক’রে পুরো এলাকাটাকে সমান করা হচ্ছে। এই এলাকাটার ভেতরে একটা গ্যাসক্ষেত্রও আছে। তুরাগ নদীর বেশ কয়েকটা শাখা-প্রশাখা এর ভেতর দিয়ে চলে গিয়েছে। ব্যাপারটাকে প্রকল্পে কিভাবে বিবেচনা করা করেছে সেটা আমরা পরের কোনো একটা ব্লো-আপে দেখবো।

বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পটি নতুন নয়। বেশ কয়েক দশক ধ’রেই বেসরকারী উদ্যোগে একটু একটু ক’রে বেড়ে উঠছে এলাকাটি। মূলত নিচু জায়গা বালি-ভরাট ক’রেই এটি করা হয়েছে। সরকার বা রাজউকের এটাতে সাই আছে বলেই জানা যায়। এমনকি তুরাগের একটা শাখাকে যে পুরাপুরি ভরাট করে ফেলা হয়েছে – সে ব্যাপারেও কোনো আপত্তির কথা জানা যায় না। মূলত আবাসিক এলাকা হিসেবে বলা হলেও দিনে দিনে এটা মিশ্র আচরণ নিতে শুরু করেছে। অনেকগুলো বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে এখানে। আধুনিক হাসপাতাল, কনভেনশন সেন্টার, গ্রামীনফোন সেন্টারের মতো অফিস বিল্ডিং গড়ে উঠেছে এরই ভেতর। চাহিদা থাকায় এর পেরিফেরিতে গড়ে উঠেছে এই সময়ের সবচেয়ে বড় বিপনিকেন্দ্র, যমুনা ফিউচার পার্ক। বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারও এই আবাসিক এলাকাটির পেরিফেরিতে চালু হয়ে গিয়েছে। সে চাহিদার কারণেই মূলত।

বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদ অনুযায়ী জলসিড়ি আবাসন প্রকল্পটি ২০১০ সালে সরকারকর্তৃক গৃহীত ড্যাপে উল্লখিত নিম্নভূমি বা জলাভূমি এলাকাতে অবস্থিত। সরকার তবুও এটা অনুমোদন দিতে আগ্রহী ব’লেই জানা যাচ্ছে বিভিন্ন পত্রিকা মারফত। এটি পুরোপুরি আবাসন প্রকল্প হবে না শেষ পর্যন্ত আরো একটি মিশ্র উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে- সেব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারিনি এখনো পর্যন্ত।

Purbachal 21.10.17

পূর্বচল আবাসিক এলাকার ২১.১০.১৭ তারিখের স্যাটেলাইট ভিউ

 পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পটি মূল ঢাকার সাথে এখনো পর্যন্ত একটি মাত্র ৩০০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা দিয়ে সংযুক্ত। যে রাস্তাটা আবার পুরোপুরি প্রকল্পটির একেবার মাঝ বরাবর দিয়ে না গেলেও প্রকল্পটিকে যে দুইটি ভাগে ভাগ ক’রে ফেলছে সেটা সুস্পষ্ট। প্রকল্পটির পূর্বদিক দিয়ে ঢাকা-সিটি-বাইপাস চলে গিয়েছে। তবে সেটিও প্রকল্পের সীমানা নয়। বাইপাসটির আরো পূর্বদিকেও প্রকল্পটি বিস্তৃত। প্রথম দিকে একে আবাসিক প্রকল্প হিসেবে বলা হলেও এখন এটাকে একটা মিশ্র-ডিভেলপমেন্ট হিসেবেই গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকার ১৪২ তলা বাণিজ্যিক ভবন তৈরী করার কথা বলছে এই প্রকল্পে। যদিও এখনো পর্যন্ত তার সাইট নির্দিষ্ট ক’রে জনসাধারণকে সরকার বা রাজউক কারো পক্ষ থেকেই বলা হয়নি।

কোনো ধরণের মেট্রো-রেল দিয়ে প্রকল্পটি এখনকার ঢাকা শহরের সাথে সংযুক্ত হবে কিনা তার কোনো নির্দেশনা ম্যাপ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না এখনো। প্রকল্পের বিজ্ঞাপনেও এমন কিছুর উল্লেখ দেখা যায়নি। এত বড় একটি প্রকল্পের সাথে বর্তমানের ঢাকা নগরীর যোগাযোগের ব্যাপারটা ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরী করতে ব’লে মনে হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। পূর্বাচল সংলগ্ন অন্য দুইটি বড় আবাসিক প্রকল্প, বসুন্ধরা এবং জলসিড়ির সাথে এই প্রকল্পের সড়ক যোগাযোগের ব্যবস্থাটা কেমন হবে সেটাও ম্যাপ দেখে বোঝার বিশেষ সুযোগ নেই।

Bridges in Purbachal 21.10.17 A

পূর্বাচল আবাসিক এলাকার একটি ব্লো-আপ ভিউ : ২১.১০.১৭ তারিখে নেয়া

রাস্তার প্রাটার্ন দেখলে প্রথমেই যেটা মনে আসে সেটা হলো, এখানে এগজিস্টিং যে নদী বা খালগুলো আছে সেটা মাথায় নিয়ে প্রকল্প ডিজাইন করা হয়নি। রাস্তাগুলো বেশির ভাগই সরলরেখার। অল্প যে সামান্য কটা রাস্তা আকাবাঁকা করা হয়েছে তা ভূমিরূপ অনুযায়ী করা হয়নি। হয়েছে একেবারেই খামখেয়ালি ভাবে। একটা বিষয় না বললেই নয়, তা হলো প্রকল্পে সেতুর সংখ্যা। খুব অল্প একটা জায়গার ভেতরে এত বেশি সংখ্যক সেতু তৈরীর কারণটা বুঝে ওঠা বেশ কঠিন। আবার সেতুগুলোর জায়গাতে নদী বা খালের প্রস্থও কমিয়ে আনা হয়েছে। এটা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার অবকাশ আছে ব’লে মনে করি। এত বেশি সংখ্যক সেতুর কারণে প্রকল্পের খরচ যে বেড়ে গিয়েছে সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। আবার প্রকল্পের গুণমান বেড়েছে বলে মনে হয় না। তার উপর নদী বা খালের পাড় ঘেসে রাস্তা তৈরী করা হয়নি এখানে। এতে নদী দখলের যে প্রবণতা আমাদের দেশে দেখা যায় তার সুযোগ রয়েই গেলো।

(রবার্ট ভেঞ্চুরি, ডেনিস স্কট ব্রাউন আর স্টিভেন ইজেনার মিলে ১৯৭২ সালে  ‘লার্নিং ফ্রম লাস ভেগাস- শিরোনামে একটা বই লিখেছিলেন। পূর্বচল প্রকল্পটি নিয়ে এমন একটা বইয়ের অপেক্ষায় থাকলাম আমি।)

Uttara 3rd Phase 21.10.17

উত্তরা থার্ড-ফেইজের স্যাটেলাইট ভিউ: ২১.১০.১৭ তারিখে নেয়া

 

এটি সরকারের একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প। বিশেষত এর এ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পগুলো। একসাথে এতগুলো এ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে একটা কমপ্লেক্স এর আগে বাংলাদেশে করা হয়নি। বা করা সম্ভব হয়নি। সরকারী বা বেসরকারী কোনো মাধ্যমেই এর আগে এত বড়-স্কেলে আবাসন বা এ্যাপার্টমেন্ট-প্রকল্পের চেষ্টাও করা হয়নি। প্রকল্পটির সাফল্য বা ব্যর্থতা আমাদেরকে অনেক কিছু শেখাবে বলে আশা করা যায়।

uttra_3rd phase

উত্তরা থার্ড-ফেইজের লে-আউট প্ল্যান : রাজউক থেকে সরবরাহকৃত

 

এই ম্যাপটি রাজউক থেকেই সরবরাহ করা হয়েছে। এই ম্যাপ অনুযায়ী প্রকল্পটি সোনারগাঁও-জনপথ সড়ক দিয়ে পূর্ববর্তী ফেইজের সাথে যুক্ত। আর বেড়িবাধের রাস্তার সাথে দুইটি পয়েন্টে যুক্ত হবে। প্রস্তাবিত এ্যাভিনিউ-২ দিয়ে কোনো ভাবে প্রকল্পটিকে মিরপুরের সাথে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা আছে। তবে মিরপুর ডিওএইচএস আর ক্যান্টনমেন্টের মাঝ দিয়ে সেটা কিভাবে করা হবে তার কোনো দিক নির্দেশনা এখানে নেই। বেড়িবাধের রাস্তাটি এখনো পর্যন্ত দুই-লেইন-বিশিষ্ট এবং ঢাকা-আশুলিয়া মাহাসড়কের সাথে গাবতলীর সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। ফলে রাস্তাটিতে ভারী-গাড়ীর সংখ্যাই বেশি থাকে। প্রকল্পটির সাথে বেড়িবাধের এই রাস্তার সংযোগের ব্যাপারটি নিয়ে রাজউকের ভাবনা আছে বলেই জানি। তবে তা কেমন নিশ্চিত নই এখনো পর্যন্ত। ২১০ ফুট প্রশস্ত বর্ধিত সোনারগাঁও-জনপথের উত্তরপাড়ে মেট্রো-রেলের স্টেশন করার পরিকল্পনা আছে। যার কাজ ইতিমধ্যে শুরুও হয়েছে। অর্থাৎ উত্তরা থার্ড-ফেইজের মেট্রো-রেল ব্যাবহারকারীদের অধিকাংশকেই  ২১০ ফুট চওড়া সোনারগাঁও-জনপথ সড়কটি পার হয়ে মেট্রো-স্টেশনে যেতে হবে।

ঢাকাকে আয়তনে বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্য নিয়ে নির্মানাধীন এই সব উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য নির্মাণ উপকরণের যোগান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যান্য উপকরণের পাশাপাশি পোড়া-মাটির ইট বাংলাদেশের একটি প্রধাণ নির্মাণ-উপকরণ। উন্নয়ন প্রকল্পের যত কাছ থেকে এই উপকরণগুলো যোগাড় করা যায়, প্রকল্প-ব্যয় কমিয়ে আনতে তা ততটা সহায়ক হয়। আর তাই ঢাকা নগরীর চারপাশেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইটের ভাটা। যার বেশির ভাগই নদীর পাড়ে কিমবা নিচু-এলাকা ব’লে চিহ্নিত জায়গাতে অবস্থিত। এইসব ইট ভাটার চিমনি থেকে বের হওয়া ধোয়াগুলো শহরের বাতাসের দূষণের অন্যতম কারণ। নিচে গুগল-আর্থ থেকে নেয়া ঢাকার আশপাশের কয়েকটি স্যাটেলাইট ভিউ দেখা যাক –

West side of Dhaka- Just passing Gabtoli

আমিনবাজারে ঢাকা-সাভার মহাসড়কের দুই ধারের স্যাটেলাইট ভিউ : ১০.১০.১৭ তারিখে নেয়া

 

 

এই ছবিটি ঢাকার পশ্চিমাঞ্চলের। গাবতলী পেরিয়ে আমিনবাজার পৌছাতেই রাস্তার দুই পাশের নিচু-এলাকাতে এই ভাবেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইটের ভাটা। শহর গড়ে তোলার জন্য আমাদের ইটের প্রয়োজন অনেক। কিন্তু এই ভাবে প্রাকৃতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমিকে নষ্ট ক’রে আমরা হয়তো সস্তায় ইট পেয়ে যাচ্ছি। তাতে আমাদের নির্মাণ-খরচ কমিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে বটে, কিন্তু সার্বিক ক্ষতির হিসাব করা হচ্ছে না ব’লেই তা যে খুব কম তা কিন্তু নয়।

Gazipur

গাজীপুর থেকে চন্দ্রা যাওয়ার পথের দুই পাশ : বংশি নদী সংলগ্ন : ১০.১০.১৭ তারিখে নেয়া

 

 

উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে গাজীপুর থেকে চন্দ্রা হয়ে টাঙ্গাইল যাওয়ার পথে বংশি নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে শতাধিক ইটের ভাটা। ইট-ভাটাগুলো গড়ে উঠেছে সবচেয়ে উর্বর জমিতে। একেবারে নদীর পাড়ের পলি-জমা মাটিতে। অথচ নদীর পাড়ের এই জায়গাই হতে পারতো আবাসিক এলাকার জন্য সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত। চাষাবাদের কথা না হয় বাদই দিলাম।

periphery of Narayanganj

বুড়িগঙ্গা আর ধলেশ্বরীর মিলন স্থানের স্যাটেলাইট ভিউ : ১০.১০.১৭ তারিখে নেয়া

 

উপরের চিত্রটি ঢাকার দক্ষিণ-পূর্ব কোণের। নারায়নগঞ্জ শহরের কাছাকাছি এবং ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে। এই ইটের ভাটাগুলো থেকেই ইট তৈরী ক’রে সেগুলোকে খানিকটা নৌপথ বেয়ে, খানিকটা সড়কপথ ধ’রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উপরের ঐসব উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সাইটে। নিচের ছবিটি ধলেশ্বরী থেকে বুড়িগঙ্গাতে ঢোকার মুখে লঞ্চ থেকে মাস তিনেক আগে তোলা।

IMG_20170724_061219

ধলেশ্বরী থেকে বুড়িগঙ্গার দুই পাড়ের চিত্র

পূর্বাচল সংলগ্ন শীতলক্ষা নদীর দুইধারও এমনটা হওয়ার দিকেই যাচ্ছে। নিচের ছবিটি তারই প্রমাণ।

bank of shitalakshya-21.10.17

শীতলক্ষার দুই পাড়ে গড়ে ওঠা ইট ভাটার স্যাটেলাইট ভিউ : ২১.১০.১৭ তারিখে নেয়া

পূর্বাচল, জলসিড়ি আর বসুন্ধারা এলাকার প্লটগুলোতে যখন পুরোদমে নির্মাণ কাজ শুরু হবে তখন শীতলক্ষার পাড়ের চিত্র যে আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে সেটা মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে।

উপরের ছবিগুলো থেকে আমরা খুব সহজেই কিছু প্যাটার্ন আবিস্কার ক’রে নিতে পারবো। কয়েকটা বলি-

১. উন্নয়ন প্রকল্পে এগজিস্টিং ভূমিরূপ পরিবর্তন করার প্রবণতা লক্ষণীয়
২. প্রকল্পগুলোর সবই প্লট-কেন্দ্রিক
৩. পাশ্ববর্তী উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে সমন্বয়হীনতা প্রকটভাবে লক্ষণীয়
৪. মিশ্র-ব্যবহার উন্নয়ন প্রকল্প (প্রকল্পে ভূমি ব্যবহারের ধরণ বহুবিধ)
৫. উন্নয়ন প্রকল্পের আশপাশের এলাকার উপর প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর প্রভাব দৃশ্যমান
৬. প্রকল্পের রাস্তাগুলো তথা জোনিঙের ব্যাপারে ভূমি-রূপের বিবেচনা অনুপস্থিত
৭. প্রকল্প-ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য ডিজাইনে বিবেচনা নেই
৮. সবগুলো প্রকল্পেই কনটেক্সটের গুরুত্ব উপেক্ষিত

অক্টোবর 2, 2017

নগরী ঢাকা-৫

ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার একটা বৈশিষ্ট্য হলো, এতে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। … সিএনজি অটোরিকশা একটি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট। যেটি কিনতে দাম পড়ে ৫ লক্ষ টাকার মতো। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন ক’রে রাস্তায় নামাতে গেলে এই ২০১৭ সালে সব মিলিয়ে খরচ পড়ে যায় ১৯ লক্ষের মতো টাকা। তাও সেই অটোরিকশাটি নতুন গাড়ি হয় না সাধারণত। পুরনো নষ্ট হ’য়ে যাওয়া কোনো মিশুক বা সিএনজি-অটোরিকশার নাম্বার ঘুষের বিনিময়ে নবায়ন করা হয়। এখন যে লোকটা ১৯ লক্ষ টাকার মতো বিনিয়োগ করলো ২০১৭ সালে একটা অটোরিকশার পেছনে তা সে তুলে নিতে পারবে কত বছরে এবং কিভাবে- সেটা একটা প্রশ্ন বটে।

হাইওয়েতে বিভিন্ন বাস কম্পানি প্রতিদিনই প্রায় কোনো না কোনো নতুন বাস নামাচ্ছে। ভাল ব্যবসাও করছে। এতে সাধারণ মানুষ ভাল সেবাও পাচ্ছে। অথচ এমনটা ঢাকা বা চট্টগ্রামের অভ্যন্তরীন বাস যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঘটছে না। এর পেছনের কারণটা মূলত অর্থনৈতিকই। সরকারী প্রতিষ্ঠাণের ঘুষ আর রাজনৈতিক কিমবা স্থানীয় মাফিয়ার চাঁদাবাজির কারণে নতুন কোনো গণপরিবহনের নিবন্ধন নিতে খরচ প’ড়ে যায় গাড়ির প্রকৃত মূল্যের থেকে অনেক বেশি। যে কারণে ভাল মানের গাড়ি, যার দাম একটু বেশি পড়ে, তা শহরের গণপরিবহনে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা গিয়েছে কমে।

রাস্তায় লেইন মেনে চলাচলের রেওয়াজ আমাদের দেশে গড়ে ওঠেনি। তার জন্য কোনো পুলিশি ব্যবস্থাও নেই। ফলে অহরহ লেইন পরিবর্তনের পরিণতিতে বেশিরভাগ গাড়িই অল্প কিছু দিনের ভেতরেই ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। কারো বা ভিউয়িং-মিরর খুলে প’ড়ে যায়। কারো বা বাম্পার ভেঙ যায় রাস্তায় নামার প্রথম দিনই। জানালার গ্লাস ভাঙা থাকার ব্যাপারটা এতটাই ক্লিশে হয়ে উঠেছে যে এটা নিয়ে কেউ সামান্য বিচলিত বোধও করে না। অথচ ফিটনেসের খড়গ ঠিকই আছে। অর্থাৎ পুলিশ মাঝে মাঝেই এইসব ক্ষতবিক্ষত গাড়িগুলোকে জরিমানার মুখোমুখি হ’তে বাধ্য করে। তাতে গাড়ির পরিচালন খরচ যায় বেড়ে। যে পুলিশের কাজ সড়কের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা তারাই শেষে তাদের ব্যর্থতাকে উপজিব্য ক’রে অর্থনৈতিক সুবিধা নেয়। কারণ তাদের জন্য এক ধরণের বাধ্যবাধকতা থাকে মাসে নির্দিষ্ট সংখ্যক কেইস বা মামলা দেওয়ার। তারা সেটা দেয়ও। আর বাড়তি হিসেবে মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘুষ নেয়া তো আছেই। সেটা পাবলিক এবং প্রাইভেট দুই ধরণের গাড়ির জন্যই।

আর কোলাটেরাল ড্যামেজের হিসাবটা খুব সহজ নয়। বিভিন্ন ধরণের হরতালের প্রচলন আর ব্যবহার আমাদের দেশে কম নয়। তাতে প্রথমেই সরাসরি ক্ষতির শিকার হয় গণপরিবহন খাতই। আবার ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠাণের বিভিন্ন ধরণের গুণ্ডা বাহিনী আছে। আমাকেই অনেকবার বাস থেকে নেমে যেতে হয়েছে এইধরণের গুণ্ডাদের কারণে। কখনো তেজগাঁও, কখনো মিরপুর, আবার কখনো বা ঢাকা কলেজের সামনে। ভাড়া নিয়ে হয়তো শিক্ষার্থীদের সাথে গ্যাঞ্জাম হয়েছে, তার কারণে তারা বাস থামিয়ে সাধারণ যাত্রীদেরকে নামিয়ে দিয়ে বাস ভাঙতে শুরু করেছে- এমনটা আমি অন্তত ৬ বার দেখেছি। আর ড্রাইভার আর কন্ডাকটরদেরকে মারধরের ঘটনা তো অহরহই ঘটে।

শহরের গনপরিবহন ব্যবস্থার ভেতর ক্রিয়াশীল রয়েছে এই ধরণের নানা অরাজকতা। আমি অবশ্যই সবগুলোর কথা বলতে পারিনি। এই নৈরাজ্যগুলোর কারণে গণপরিবহনের খরচ যায় বেড়ে। এইসব বাড়তি খরচগুলো শেষ পর্যন্ত যাত্রীদেরকেই বহন করতে হয়। ঢাকাতে শুধুমাত্র অফিস যাতায়াতের জন্যই অনেককে মাসে ৩ থেকে ৪ টাকা খরচ করতে হয়। যদি কখনো একটু বাড়তি বৃষ্টি বা শহরে বিদেশী সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধাণ টাইপের কেউ আসেন তবে সেদিন খরচ যায় আরো বেড়ে। এর উপর যদি মাসে অন্তত ৩ বার বাজার বা শপিং বা কোনো বিনোদনের উদ্দেশ্যে কোথাও যাওয়া পড়ে তাহলে আরো ১৫০০ টাকা বাড়তি যোগ করা যায় যাতায়াত খরচ হিসাবে। জনপ্রতি মাসে শহরের ভেতরে যাতায়াত বাবদ প্রায় ৬ হাজার টাকা খরচ করেন এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। কিন্তু সেই যাতায়াত অভিজ্ঞতাকে এক কথায় দুর্বিষহ বলাটা ভুল হবে না। অথচ আর সামান্য আড়তি খরচ করলেই একটা ব্যক্তিগত গাড়ি পোষা যায়। মানুষ সেদিকেই ঝুঁকছে। মানুষ লোন ক’রে, টাকা জমিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি কিনছে। তাই দেখে অর্থমন্ত্রী হয়তো ভাবছেন দেশের অর্থনীতি তরতর ক’রে এগিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য তিনি এটা ঠিকই আইডেন্টিফাই করছেন যে অর্থনীতির সূচক অনুযায়ী যে পরিমাণ টাকা বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ হওয়ার কথা সেটা হচ্ছে না। আমি যেটা মনে করি সেটা হলো, কাগজ-কলমে থাকা অর্থনৈতিক হিসাবের বাড়তি টাকাটা যে কোথায় খরচ হয়ে যাচ্ছে তা বুঝতে তিনি ব্যর্থ হচ্ছেন।

একটা ভাল এবং কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা তৈরী করতে হ’লে তাই শুধু নগর-পরিকল্পনাবিদদের দেওয়া প্রয়োজনীয় গাড়ির হিসাবের সংখ্যা আর তাদের রুট বিবেচনা করলেই হবে না। এর আর্থিক অব্যবস্থাপনার দিকটিও ঠিকঠাক করতে হবে।

সেপ্টেম্বর 18, 2017

যাপিত জীবন – ২৫

কী যেন বলতে চাই। হয়তো তোমাকেই। কিমবা হয়তো নিজেকেই। মনে হয় বলাটা দরকার। অথচ খঁজে পাই না বা ভেবে বের করতে পারি না কী সেটা। হয়তো খুঁজছি এখনো। অন্যরা হয়তো দ্রুতই খুঁজে পায়। আমার সব কিছুতেই দেরী হয়ে যায়।

আচ্ছা, এমন কি হ’তে পারে অন্যরা কিমবা বেশির-ভাগ মানুষই খোঁজার ব্যাপারটাই জানে না। ওরা তাই কেউ খোঁজে না। ওরা কিছু বলে না। শুধু শব্দ করে। প্রবোধ দেয় নিজেকেই। খুঁজে ফেরার ক্লান্তি জানতে হয় না ব’লে এক ধরণের সুখ নিয়ে ঘুমাতে যায়। আমার ঘুমে হয়তো সেই ধরণের সুখ নেই। আমার ঘুমের ধারা হয়তো তাই খানিকটা ভিন্ন। কি জানি!

সেপ্টেম্বর 18, 2017

যাপিত জীবন – ২৪

নতুন প্রতিভাবান লেখক দেখা যাচ্ছে না। এর কারণ এই নয় যে আমরা প্রতিভার সংকটে ভুগছি। এর কারণ হলো লেখক যেন তৈরী না হয় তার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। সৃষ্টিশীল কার্যক্রম প্রায় সবই বন্ধ ক’রে বা দমিয়ে রাখা হয়েছে। নাটক, সিনেমা, উপন্যাস, কবিতা সবই সরকার চাইলে নিষিদ্ধ করতে পারেন। করেনও। তার উপর এমন সব আইন ক’রে রাখা হয়েছে যে, বিভিন্ন ধরণের অনুভূতিতে আঘাত করার অযুহাত দেখিয়ে লেখককে কারাবন্দী করা যায়।

লেখকরা তো এই সমাজ থেকেই আসেন। সমাজ তাদের মর্মে মর্মে খুব গভীর ক’রে একটা জিনিস আজ শিখিয়ে দিচ্ছে। তা হলো, বোবার কোনো শত্রু নেই।

কথাটাতে খানিকটা বাস্তবতা থাকতে পারে। কিন্তু এতে সবটা বলা নেই। বলা নেই যে বোবার কোনো বন্ধুও নেই। আর বন্ধু ছাড়া মানুষ শেষ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন মানুষ। বিচ্ছিন্ন মানুষ বড্ড দুর্বল। সে যদি কোনো সমাজ গ’ড়েও তোলে তা খুব পলকা হতে বাধ্য। আর বোবার সমাজে যেহেতু কথা থাকে না তাই নতুন ভাবনাও থাকে না। নতুন ভাবনা যদি না থাকে তবে প্রচেষ্টা, উদ্যম এসব যায় কমে। তাতে সমাজ স্থবির হ’য়ে পড়ে। সমাজ এগিয়ে যাওয়ার রসদ-শূন্য হ’য়ে পড়ে। পরিণতিতে বোবা-মানুষে গড়া সমাজ নিজেই নিজের ধ্বংস ডেকে আনে।

সক্রিয় নতুন লেখক দরকার আরো একটা কারণে। যারা নতুন ঘটনাগুলো নিয়ে লিখতে পারবেন। সেগুলোকে ব্যাখ্যা করতে পারবেন এই সময়ের মতো ক’রে। আবার পুরনো ঘটনাগুলোকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে হাজির করতে পারবেন। বা পুরনোকে প্রশ্ন করতে পারবেন। পুরনোকে প্রশ্নের মুখে দাড় না করানোটাও এক ধরণের বোবা থাকা। যার পরিণতিতে মানুষ পেছনে হটতে থাকে। সক্রিয় লেখক আমাদেরকে এটা মনে করিয়ে দেবেন। হতাশার কথা এমনটা ঘটতে দেখছি কম আজ-কাল।

অগাষ্ট 22, 2017

স্থাপত্যস্থিত জটিলতা এবং দ্বন্দ্ব : ৫

৫.

দ্বন্দ্বমুখর স্তরসমূহের ধারাবাহিকতায় : দ্বৈত-কার্যকরী উপাদান

‘দ্বৈত-কার্যকরী উপাদান’ আর ‘উভয়’ পরস্পর সম্পর্কিত। কিন্তু এদের ভেতর একটা পার্থক্য আছে। দ্বৈত-কার্যকরী উপাদান ব্যবহারের প্রকৃতি আর কাঠামোর সাথে বেশি সম্পর্কিত, যেখানে ‘উভয়’ কোনো একটা উপাদানের সাথে পুরো ব্যাপারটার সম্পর্ককে নির্দেশ করে। ‘উভয়’ দুইটা কার্যকারীতার চেয়ে দুইটা অর্থময়তাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। কিন্তু দ্বৈত-কার্যকরী উপাদান নিয়ে কথা বলার আগে, আমি বহুবিধ-কার্যকরী ভবন নিয়ে বলে নিতে চাই। এই শব্দটা দিয়ে আমি এমন একটা ভবনকে বোঝাচ্ছি যার কর্মসূচি (program) আর গড়ন (form) জটিলতাতে পরিপূর্ণ, তথাপি সামগ্রিক বিচারে প্রভাবশালী (strong) – লি করবুজিয়েরকৃত লা টৌরেটে বা চন্দ্রিগড়ের ন্যায়বিচার প্রাসাদের (Palace of Justice) জটিলতাময় সম্পূর্ণতা এর বিপরীতে তার সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রাসাদ বা প্যারিসের আরমি-ডি-স্যালু’র বিবিধত্ব (multiplicities) আর বিন্যস্ততা। দ্বিতীয় পন্থা কর্মসূচীকে বিভিন্ন আন্তঃসংযুক্ত (interlocking-১) বিভাগ কিমবা মাধ্যম দিয়ে যুক্ত (connected) প্যাভিলিয়নে ভাগ ক’রে দেয়। প্রথাবদ্ধ আধুনিক স্থাপত্যের এ এক অতিসাধারণ বৈশিষ্ট্য। মিজ’কৃত শহুরে ইলিনয়েস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে প্যাভিলিয়নগুলোর ধারাল বিযুক্তিকে (incisive separations) এ ধারার সর্বোচ্চ (extreme) কাজ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

মিজ আর জনসনকৃত সিগ্রাম ভবনে দাপ্তরিক কাজ ছাড়া (functions other than offices) বাকি সব বাদ দেওয়া হয়েছে (নিচের তলার পেছনের দিক বাদ দিলে), উপরন্তু একই ধরণের দেয়াল ব্যবহার ক’রে উপরের দিকের তলার পুরকৌশল (ম্যাকানিক্যাল) উপকরণগুলোকে এমনভাবে লুকানো হয়েছে যেন মনে হয় ওখানে অন্য ধরণের কিছু নেই। ইয়ামাসাকিকৃত নিউ-ইয়র্কের বিশাল বিশ্ব-বাণিজ্য কেন্দ্রটির গড়নকে অতিরিক্ত সাদামাটা ক’রে ফেলা হয়েছে। বিশের দশকের প্রতিনিধিত্বশীল গগনচুম্বী-ভবনগুলো ছদ্মবেশ না নিয়ে বরং আলাদাই করে, উপরের তলাগুলোর পুরকৌশল উপকরণ রাখার জায়গাগুলো স্থাপতিক বিচারে আগাগোড়াই অলংকারিক গড়নের। চাড়ুনি-বাড়ির (Lever House) নিচ-তলাতে নানা ধরণের কার্যকারিতার পরিসর থাকার পরও সেগুলো প্রয়োজনের থেকেও বেশি ক’রে আলাদা করা হয়েছে একটা অন্ধকার সংযোজক পরিসরের মাধ্যমে। তুলনামূলকভাবে পি.এস.এফ.এস. একটা ব্যতিক্রমী আধুনিক ভবন যা এর কর্মসূচির বহুবিধতা আর জটিলতার ব্যাপারে একধরণের ইতিবাচক ব্যক্তব্য প্রচার করে। এটি নিচ-তলার একটা দোকান, দোতলার বড়সড়ো ব্যাংকটা, তার উপরের কয়েকটা তলার দাপ্তরিক পরিসর আর একদম উপরের তলার বিশেষ কিছু কক্ষকে একত্রিত করেছে। কার্যকারণ (function) আর পরিমাপের (scale) এই বৈচিত্রসম্ভার (একদম উপরের বিশাল বিজ্ঞাপন-ব্যানার সহ) একটা আটোসাটো সম্পূর্ণতার অভ্যন্তরে ক্রিয়াশীল হয়েছে। এর সামনের দিকের বক্রাকার দেয়াল (curving facade) ভবনের অন্য অংশের আয়তকার বৈশিষ্ট্যের সাথে সাংঘর্ষিক। এক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা ত্রিশের দশকের একটা বহুল-ব্যবহৃত বিষয় মাত্র নয়, কারণ এর একটা শহুরে কার্যকারণ (urban function) আছে। এর কিনারা ঘিরে পথচারীদের হাঁটার জায়গাটা পরিশিলিত হয়েছে।

বহু-কার্যকরী ভবনগুলো তার চরম সীমাতে পন্টি ভেসচিয়ো (Ponte Vecchio – ২) বা Chenonceaux বা সেন্ট এলিয়ার ভবিষ্যৎ-দ্রষ্টি প্রকল্পের মতো হ’য়ে ওঠে। প্রত্যেকে এর সম্পূর্ণতার ভেতর জটিল কার্যকারণ (complex functions) সহকারে পরিবর্তনশীলতার বৈপরীত্যময় ক্রমগুলোকে (contrasting scales of movement) ধারণ করে। লি করবুজিয়েরকৃত আলজারিয়ার প্রকল্প, যা একই সাথে মহল-বাড়ি (apartment house – ৩) এবং মহাসড়ক (highway), এবং রাইটের শেষের দিকে করা পিটসবার্গ আর বাগদাদের প্রকল্পের সাথে কানের করা সংযোগকারী-স্থাপত্য (viaduct architecture) আর ফুমিহিকো মাকির করা ‘সংগ্রাহক গড়ন’ (collective form) এর সাথে মিল আছে। এই সবগুলো প্রকল্পের সম্পূর্ণতার ভেতরে অনুপাত (scale), অবস্থানের পরিবর্তন, কাঠামো আর পরিসরের এক জটিল আর বৈপরীত্যে ভরপুর আবস্থান-ক্রম দৃষ্টিগোচর হয়। এই ভবনগুলো একই সাথে ভবন এবং সেতু। বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো বাধ (dam) আবার সেতুও (bridge), শিকাগোর লুপ শহরের সীমানাও, আর কানকৃত রাস্তাগুলো ‘ভবন হয়ে উঠতে চায়’।

বহু-কার্যকরী কক্ষ কিমবা বহু-কার্যকরী ভবন দুইয়ের পেছনেই যৌক্তিক কারণ আছে। কোন একটা নির্দষ্ট সময়ে বা আলাদা-আলাদা সময়ে কোনো একটা কক্ষে অনেকগুলো কাজ করা যেতে পারে। কান গ্যালারীকে বেশি পছন্দ করতেন কারণ এটা দিক-নির্দেশক আবার দিক-অনির্দেশকও, একই সাথে সংযোগকারী-বারান্দা (corridor) এবং কক্ষ। সাধারণত ঘরের আয়তন আর গুণমানের কম-বেশি ক’রে তাকে কখনো মূল পরিসর আর কখনো সহায়ক পরিসর, কখনো দিক-নির্দেশক পরিসর আর কখনো দিক-অনির্দেশক পরিসর, কিমবা সুনির্দিষ্ট কোনো নাম না দিয়ে বরং ধরণ-মূলক কোনো নাম দিয়ে তাকে পৃথক ক’রে ফেলা হয়। সুনির্দিষ্ট কোনো প্রয়োজনকে এভাবে আলাদা করলে তার জটিলতাসমূহে যে পরিবর্তন সূচিত হয় কান তা স্বীকার করেন। যেমনিভাবে তার ট্রেনটন কমিউনিটি সেন্টার প্রকল্পে, এই পরিসরগুলো উনিশ শতক-পূর্ববর্তী সংলগ্ন-কক্ষের আকার-আকৃতির সাথে আরো জটিল কোনো প্রকারে সাদৃশ্যযুক্ত হয়। সুবিধার জন্য সংযোগকারী বারান্দা আর কক্ষকে শুধুমাত্র একটা কাজে ব্যবহার করার ধারণার উদ্ভব আঠার শতকে। ভবনের অভ্যন্তরে সুনির্দিষ্টভাবে স্থায়ী (বিল্ট-ইন) আসবাবপত্রের মাধ্যমে আধুনিক স্থাপত্যধারার বৈশিষ্ট্যগত পৃথককরণ এবং কর্মসূচির কার্যকারীতার বিশেষায়ন এই ধারণার সর্বোচ্চ প্রকাশ নয় কি? বিজড়িত করার মধ্য দিয়ে কান এই ধরণের গোড়া বিশেষায়ন এবং সীমাবদ্ধ কার্যকারণবাদকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেন। এই ক্ষেত্রে “গড়নের জন্য কার্যকারণের উদ্ভব হয়”।

নমনীয়তা প্রসঙ্গে আধুনিক স্থপতিদের বিবেচনা অনুযায়ী বহু-কার্যকরী কক্ষ সম্ভাব্য অধিকতর-সঠিক সমাধান দেয়। যে কক্ষের কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের বদলে একটা সাধারণ ব্যবহার থাকে, সরানো যায় এমন পার্টিশনের বদলে যেখানে সরানোর উপযোগী আসবাবপত্র থাকে, সে ধরণের কক্ষ কোনো বাস্তবিক নমনীয়তার চেয়ে এক ধরণের ধারণাগত নমনীয়তাকে উর্ধ্বে তুলে ধরে, এবং আমাদের ভবনের জন্য বাড়তি প্রয়োজনীয় কাঠিন্য এবং স্থায়িত্বকে সম্ভব ক’রে তোলে। কার্যকর দ্ব্যর্থকতার উপস্থিতি ব্যবহার উপযোগী নমনীয়তার গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়।

নোট:

১. আন্তঃসংযোগ : interlock এর বাংলা পরিভাষা করলাম। অভিধানে পাচ্ছি ‘পরস্পরের মধ্যে আবদ্ধ করা / একটি তলার মধ্য দিয়ে আর একটি তলাকে আটকানো / উপরে পড়ে বা অন্যভাবে পরস্পর আবদ্ধ হওয়া’। স্থাপত্যে ইন্টারলক যে অর্থে ব্যবহৃত হয় সেটা বোঝানো এই শব্দগুচ্ছ দিয়ে একটু কঠিন। একটা শব্দ দিয়ে এটা বোঝানোর চেষ্টাতেই এই নতুন শব্দটা তৈরী করা। আরো ভাল পরিভাষা তৈরী না হওয়া পর্যন্ত এটাই ব্যবহার করছি আপাতত।

২. পন্টি ভেসচিয়ো : ইতালির ফ্লোরেন্সের আর্নো নদীর উপর মধ্যযুগে নির্মিত একটা সেতু যার উপর কয়েক স্তরের দোকান আছে।

৩. মহল-বাড়ি : আবদুশ শাকুর এ্যাপার্টমেন্টের বাংলা হিসেবে ‘মহল’ ব্যবহার কারাটা যুক্তিযুক্ত মনে করেছেন। এ্যাপার্টমেন্ট হাউজকে তাই বলা যায় একগুচ্ছ মহল নিয়ে যে বাড়ি। সমাসবদ্ধ ক’রে মহল-বাড়ি।

অগাষ্ট 18, 2017

স্থাপত্যস্থিত জটিলতা এবং দ্বন্দ্ব : ৪

৪.

দ্বন্দ্বমুখর স্তরসমূহ : স্থাপত্যে “উভয়” এর উপস্থিতি-জনিত বৈশিষ্ট্য

স্থাপত্যের বোধ বা অর্থময়তার দ্বন্দ্বমুখর স্তরসমূহ এবং ব্যবহার যে আপাত-বিরোধী বৈপরীত্যকে অন্তর্ভুক্ত করে তা সংযোজক অব্যয় ‘তথাপি’ এর মাধ্যমে প্রকাশ পায়। সেগুলো খানিকটা দ্ব্যর্থক হ’তে পারে। লি করবুজিয়েরের শোধান আবাস (Shodhan House) [১২] দেখতে আটকানো তথাপি খোলামেলা – একটি ঘনক, যা তার কোনাগুলো দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে আটকানো, তথাপি এলোমেলোভাবে এর বহির্ভাগে খোলা। ওনার স্যাভয়-বাড়ি (Villa Savoye) [১৩] বাইরে থেকে দেখতে সাদামাটা, কিন্তু ভেতরটা জটিলতাময়। ব্যারিংটন উঠানের [১৪] টিউড’র-ধর্মী পরিলেখ যদিও প্রতিসম তথাপি অপ্রতিসম। তুরিনে অবস্থিত পবিত্র-ধারণায় গড়া গুয়ারিনির খ্রিস্ট-ধর্মীয় মন্দির [১৫] পরিলেখে দ্বৈততা নিয়েও সম্পূর্ণতা ধারণ করে। মিডিলটোন পার্কে অবস্থিত স্যার এডউইন লাইটইয়ানের প্রবেশ গ্যালারী [১৬,১৭] একটি দিক-নির্দেশক পরিসর, তথাপি এটা একটা বিবর্ণ (blank) দেয়ালে গিয়ে শেষ হয়েছে। বোমার্জতে ভিগনোলাকৃত প্যাভিলিয়নের সামনের দেয়ালে দরজা থাকার পরও এটা একটা ফাঁকা দরদালান (portico) । কানের বিল্ডিঙে অমসৃণ কনক্রিটের সাথে মসৃণ গ্রানাইটও থাকে। শহরের কোনো একটা সড়ক পথ হিসেবে দিক-নির্দেশক, তথাপি পরিসর হিসেবে নিশ্চল। ‘তথাপি’ বা ‘তথাপি অর্থযুক্ত’ এই সব বাক্যগুলো বহুবিধ কর্মসূচি (প্রোগ্রাম) আর কাঠামোগত দ্বন্দ্ব-সমৃদ্ধ স্থাপত্যের বিবরণ দেয়। এই প্রথাগত দ্বন্দ্বগুলো যেমন কোনো সৌন্দর্য খোঁজার উদ্দেশ্যকে নির্দেশ করে না, আবার আপাত-বিরোধীভাবে কোনো ধরণের ঝোঁকেরও প্রতিনিধিত্ব করে না।

১২. লি করবুজিয়ের, শোধান আবাস, আহমেদাবাদ

ক্লিন্থ ব্রুকসের মতে ড্যানির শিল্পে ‘উভয় পন্থা’ এরই উপস্থিতি আছে। আবার তিনি বলেন যে, এমনটা আজকের দিনে আমাদের বেশির ভাগই করতে পারি না। আমরা এমন একটা প্রথার দ্বারা শৃঙ্খলিত যা ‘এটা নয়তো ওটা’ কে বেছে নিতে বলে, এবং আমরা এমন একটা মানসিক তৎপরতা-হীনতাতে জর্জরিত – যা মনোভাবের পরিপক্বতা নিয়ে কিছু বলতে বাধা দেয় – যা আমাদেরকে শ্রেয়তর স্বাতন্ত্র্য এবং ‘উভয়’ এর ঐতিহ্যের দ্বারা স্বীকৃত অধিকতর বোধগম্য অবদমিত মনোভাবকে প্রশ্রয় দেওয়ার অবকাশ দিতো। ‘উভয়’ এর ঐতিহ্য প্রথাগত আধুনিক স্থাপত্যকে বিশেষায়িত করেছে : একটি রোদ-নিরোধক (সান স্ক্রিন)  হয়তো আর কিছু নয়; একটা অবলম্বন (সাপোর্ট) খুব কমই বেষ্টনী হিসেবে ব্যবহৃত হয়; একটা দেয়াল কোনো জানলার ছিদ্র দ্বারা উৎপীড়নের শিকার হয় না কিন্তু কাঁচ দ্বারা যার ধারাবাহিকতা সম্পূর্ণ বিঘ্নিত; কর্মসূচির (প্রোগ্রামের) কার্যকারিতা অতিরঞ্জিতভাবে নানা বিভাগে কিমবা অসংলগ্ন পৃথক প্যাভিলিয়নে বিন্যস্ত। এমনকি ‘প্রবাহমান পরিসর’ অভ্যন্তরে থেকেই বহিস্থ হয়েছে, বহিস্থ থেকেই অভ্যন্তরস্থ হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে উভয়ই না হ’য়ে। বিন্যস্ততা আর স্পষ্টতার এ ধরণের প্রকাশ জটিলতা আর দ্বন্দ্বমুখর স্থাপত্য, যা কিনা ‘এটা নয়তো ওটা’র পরিবর্তে ‘উভয়’কেই অন্তর্ভুক্ত করে নিতে চায়, এর পক্ষে অসংগত।

১৩. লি করবুজিয়ের, স্যাভয়-বাড়ি, পয়সি

‘উভয়’ প্রপঞ্চের উৎস যদি হয় দ্বন্দ্ব, এর ভিত্তিভূমি বা বুনিয়াদ তবে অবস্থানক্রম (hierarchy), যা উপাদানসমূহের ভেতর অর্থময়তার বিভিন্ন স্তর সৃষ্টির কারণ হয়, মূল্যবোধের নানা রূপসহ। এটা এমন উপাদান ধারণ করতে পারে যা একই সাথে ভাল এবং কদর্য, বড় এবং ছোট, আবদ্ধ এবং খোলামেলা, ধারাবাহিক এবং সুবিন্যস্ত, গোলাকার এবং বর্গাকার, কাঠামোগত এবং পরিসরিক। যে স্থাপত্য অর্থময়তার নানা স্তরকে ধারণ করে তা দ্ব্যর্থবোধ আর উত্তেজনার জন্ম দেয়।


একমুখী পরিসরের ব্যাসিলিকা এবং সর্বমুখী পরিসরের কেন্দ্র-কেন্দ্রিক খ্রিস্ট-মন্দির পশ্চিমা মন্দির-পরিলেখের পর্যায়ক্রমকে নির্দেশ করে। কিন্তু আর এক ধরণের খ্রিস্ট-মন্দিরের ঐতিহ্যও গড়ে উঠেছিলো যেখানে পরিসরিক, কাঠামোগত, কর্মসূচি-সম্পর্কিত এবং রূপকের প্রয়োজনীয়তার প্রশ্নে ‘উভয়’ এর উপস্থিতি দেখা যায়। ষোড়শ শতকের ধরণবাদী (mannerist) উপবৃত্তাকার পরিলেখ একই সাথে কেন্দ্র-কেন্দ্রিক আর দিক-নির্দেশক। বার্নিনিকৃত সেন্ট এ্যানড্রিয়া-আল-কুইরিনেল এর সর্বোৎকৃষ্ট নিদর্শন, দ্ব্যর্থক-ভাবে ক্ষুদ্রতর স্প্যানটি যার মূল দিক-নির্দেশক অক্ষ। নিক’লাস পেভনার দেখাচ্ছেন নিজস্ব-প্রার্থনাস্থলের (chapel) বদলে দেয়াল-লগ্ন-স্তম্ভের (pilasters) সাহায্যে পার্শ্ববর্তী দেয়ালের তির্যক অক্ষের দুই প্রান্তকে কিভাবে সমান দুই ভাগে ভাগ ক’রে দিয়ে ক্ষুদ্রতর অক্ষকে বেদীর (altar) সাথে অধিক সম্পর্কযুক্ত করা যায়। প্রপাগান্ডা-ফাইডে অবস্থিত বোররোমিনিকৃত গৃহ-সংলগ্ন মন্দিরটি পরিলেখ অনুযায়ী একটি দিক-নির্দেশক হলঘর, অথচ এর পার্শ্ববর্তী হাঁটার জায়গাগুলো (bay) এর প্রভাবকে পাল্টে দেয়। একটা প্রশস্ত হাঁটার জায়গা মুখ্য হয়ে ওঠে; স্বল্প পরিসরের একটা হাঁটার জায়গা লম্বা দেয়ালকে মাঝ বরাবর দুই ভাগ ক’রে ফেলে।

অগাষ্ট 7, 2017

প্রবচন – ২৪

১.

এরশাদ অবশ্যই একজন ব্যতিক্রমী স্বৈরাচার, যিনি প্রথা মাফিক আরেক জন স্বৈরাচারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে কেটে পড়তে চাননি। হয়তো আরেক জন স্বৈরাচারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দেওয়ার যে ঝুঁকি থাকে সাধারণত তা এড়াতে চেয়েছিলেন। অর্থাৎ ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় নিজের প্রাণটা বাঁচিয়ে নিতে এবং তারপর দেশেই থেকে যেতে চেয়েছিলেন। আর সেজন্যই দরকার পড়েছিলো কোনো না কোনো রাজনীতিকের উপর নির্ভর করা। সে রাজনীতিক রাজনীতিতে তেমন অভিজ্ঞ না হলেই এরশাদের পক্ষে ভাল- এমন ধারণা করাটা বেশ সহজই। শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আসার পেছনে এরশাদের ভূমিকা কতটা প্রত্যক্ষ জানি না তবে পরোক্ষ প্রভাব কম নয়।

২.

বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র-বিমোচনে ভূমিকা রাখে বা রেখেছে – তা যে প্রধাণমন্ত্রী জানেন না তা নয়। তিনি যে এটা নিষিদ্ধ করছেন না – তা থেকেই এটা বোঝা যায়। তবুও রাজনৈতিক কারণে যখন তিনি এটার বিরোধীতা করেন তখন এই ব্যাপারে তাঁর কাছ থেকে আরো একটু বাড়তি ডিটেইল আশা করছি। কারণ আমাদের জানাশোনা অনুযায়ী কিছু ক্ষুদ্রঋণ যেমন কাজ দিয়েছে কিছু তেমন কাজ দেয়ওনি। যেগুলো সামগ্রিক বিচারে নেতিবাচক প্রভাব রেখেছে সেগুলোকে চিহ্নিত ক’রে সে ব্যাপারে তাঁর পদক্ষেপ কাম্য।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাতে সব ধরণের মানুষকে যুক্ত করে নেওয়াটা এই সময়ের উন্নয়ন ভাবনার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্রঋণ যে সহায়ক হয়েছিলো বাংলাদেশের অর্থনীতিতে খানিকটা হলেও সেটা আমাদের অর্থমন্ত্রী ঠিকই জানেন। তবু রাজনীতিতে একটু কম পটু হওয়ায় সেই ব্যাপারটা স্বীকার করতে গিয়ে আমাদের অর্থমন্ত্রী তার দলেরই একজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রশংসা করে বসেন। একজন সাবেক আমলা এবং স্বৈরাচারের সাবেক অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে খুব বেশি রাজনৈতিক দক্ষতা আশা করা যে যায় না তা আবারো জানলাম। (২২ জানুয়ারি ২০১৭)

৩.

বাংলাদেশে প্রচুর আইন আছে যেগুলো পরস্পরের সাথে সাংঘর্ষিক। আমি বিল্ডিং সেক্টর নিয়ে এটা নিশ্চিত ক’রেই বলতে পারি। নির্মাণ বিধি এক রকম তো পরিবেশের বিধি আর এক রকম। সিটি-কর্পোরেশনের বিধির সাথে ট্রাফিক আর বিদ্যুত অধিদপ্তরের বিধির অনেক স্থানেই মিল নেই। আগুন নির্বাপণের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধি আবার অন্য কথা নিয়ে হাজির হয়। মোটের উপর স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও আমরা সারা দেশের জন্য একটা পূর্ণাঙ্গ বিল্ডিং কোড বা ইমারত নির্মাণ বিধি পাইনি। আমাদের ইমারত নির্মাণ আইন সেই ১৯৫২ সালে প্রনয়ন করা, যেটা আবার সারা দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। যার রিভিশন দরকার হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। ব্যাপারটা এই সেক্টরে যারা কাজ করছেন তারা যে সংসদ বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানাননি তাও নয়। অনেক অনেক বার বলা হয়েছে। অনেকবার খসড়া তৈরী করে সংসদের বিবেচনার জন্য পাঠানোও হয়েছে। যে সব খসড়া তৈরী করতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ এবং বিজ্ঞ অনেকে দীর্ঘ সময় খেটেছেনও। একটু খোঁজ নিলেই সেগুলো জানা যাবে। ২০০৬ এর পর ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অফিসিয়ালি প্রিন্ট করা হয়নি। হাউজ বিল্ডিং রিসার্স ইনস্টিটিউট প্রতিবছর বিল্ডিং কোড আপডেট করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু তা গেজেট আকারে আসছে না। কেন আসছে না তাও জানানো হয়না কাউকে।

পৌরসভাগুলোতে নির্মাণ বাড়ছে। তার স্টান্ডার্ড কেমন হবে তা বলা বিধির আইনগত ভিত্তি নেই আজও, কারণ সেই ১৯৫২ সালের ‘বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন এ্যাক্ট’ এর সীমাবদ্ধতা – যা পৌরসভাগুলোতে ইমারত নির্মাণ নিয়ে কোনো ধরণের বিধি এর উপস্থিতির বৈধতা দেয়নি।(পৌরসভাগুলোতে যে বিধিগুলো সাধারণভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে সে বিধিগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন তো আছেই। সত্যি বলতে সেগুলো বিধি নামের প্রহসন। এ বিষয়ে দক্ষ এক ব্যক্তি এ বিধিগুলোকে ‘ব্যাধি-মালা’ বলতেই বেশি পছন্দ করতেন ‘বিধিমালা’র পরিবর্তে।) আমাদের মতো জনবহুল অথচ আয়তনে ছোট একটা দেশের জন্য নির্মাণ প্রসঙ্গে সার্বিক একটা পরিকল্পনা থাকাটা এই সময়ে খুবই দরকারী। সেটা মানুষের জীবন রক্ষার স্বার্থে যেমন সামষ্টিক অর্থনীতির স্বার্থেও তেমন। ব্যাপারগুলো নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সংসদে আলোচনা হয়েছে বলে জানতে পারিনি। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় আছে রাজউকের প্লট আর ফ্ল্যট ব্যবসা নিয়ে। অতীব প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়েও বিধি প্রণয়নের মতো সময় যে তাদের হাতে নেই সে আমরা বুঝে গেছি।

নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো কিছু লোকের তৈরী করা বিধিগুলো শেষ পর্যন্ত সংসদ থেকে পাস হয়ে গেজেট আকারে প্রকাশ হয়না। কারণ নতুন সেসব বিধিগুলো অনেকের স্বার্থের সাথে মেলে না। বিশেষ ক’রে সেই সমস্ত সংসদ সদস্যদের যাদের সাথে বিল্ডিং ব্যবসার সরাসরি সংযোগ আছে। সংসদ যে এই ব্যাপারে অকার্যকর বা ডিসফাংশনাল হয়ে গিয়েছে দীর্ঘসূত্রীতার কারণে তা বলাটা ভুল হবে না। ব্যবসায়ীরা আইন প্রণয়নের হর্তাকর্তা হয়ে বসলে এমনই হওয়ার কথা। ইস্ট-ইন্ডিয়া কম্পানির শাসন আমাদের তো ভোলার কথা নয়। আবার হয়তো পুরোটা মনেও নেই আমাদের। তাই সংসদের অর্ধেকের বেশি আমরা ব্যবসায়ী দিয়ে ভরে তুলেছি।

রাজনীতিক সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদের অভাব বোধ করছি বড্ড বেশি আজ। যারা আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলবেন। আইনের উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করবেন। প্রণীত আইন কার্যকর করার উপায় নিয়ে কথা বললেন। যারা আইনের সাথে ব্যক্তিপূজা গুলিয়ে ফেলবেন না। নিশ্চিত ভাবেই আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াতে ধর্ম আর ব্যক্তিপূজা টেনে আনেন যারা তাদেরকে দক্ষ আইন প্রণেতা বলা যায় না।

৪.

‘ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ট’ ব্যাপারটা নিয়ে অনেক দিন ধরেই কথা হচ্ছে বাংলাদেশে। প্রত্রিকার পাতায় খবরও কম আসেনি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ব্যাপারটা নিয়ে কতটা কী ভেবেছে সেটা আমার কাছে ঠিক পরিস্কার নয়। ২০০০ সালের পর থেকে দেশে অবকাঠামো খাতে যতটা বিনিয়োগ করা হয়েছে সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা কম নয়। কিন্তু ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্টের সুবিধা নেয়ার জন্য তা বিশেষ সহায়ক নয়। একটা পদ্মা-সেতু তৈরী করতে বছর চারেক লাগতে পারে। তাতে অর্থনীতির অনেক সূচকে উন্নতি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ একটা তরুণকে আজকের পৃথিবীর জন্য তৈরী ক’রে নিতে তার পেছনে প্রায় বিশ বছরের প্রচেষ্টা দরকার। একটা বিষয় মনে রাখা দরকার যে মানুষের উৎপাদন ক্ষমতা তার দক্ষতার উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল।

অথচ বাংলাদেশের তরুণদের দক্ষতাবৃদ্ধির পেছনে তুলনামূলকভাবে গত ১৭ বছরে যথেষ্ট বিনিয়োগ করা হয়নি। ১৬/১৭ কোটি মানুষের একটা দেশে অন্তত পাঁচটা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থাকা দরকার। আছে একটা। তাও তার লোকেশন এমন একটা স্থানে যে তার কলেবর বৃদ্ধি করাটা বেশ কঠিন। কোনো কাজের জন্য দক্ষতা অর্জন করতে হ’লে আগে শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা চায়। জানি না নীতি-নির্ধারকেরা এটা নিয়ে কতটা ভেবেছেন। 

তরুণরা যদি কাজ না পায় তবে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। তারা মাদকের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠতে পারে। তার একটা ভাল প্রতিকার হতে পারে ক্রীড়া আর সংস্কৃতি। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। অথচ অনেকগুলো জেলা র’য়ে গেছে যেখানে ভাল-মানের মাঠ নেই ক্রিকেট খেলার জন্য। আমরা যদি সবগুলো জেলাতে একটা ক’রে ক্রিড়া কমপ্লেক্স তৈরী করতাম- তা বেশ উপকারী হতো। প্রথম অবস্থায় সেখানে প্রচুর অবকাঠামো তৈরীর দরকার নেই। বড়সড়ো খোলা মাঠ (অন্তত আলাদা আলাদা ২/৩টা ক্রিকেট মাঠ আর ১/২টা ফুটবল মাঠ) আর জিম হ’লেই চলবে। তবে মাঠগুলো নিয়মিত মেইনটেনেন্সে থাকতে হবে। গ্রাউন্ড যেন সবসময় খেলার উপযোগী থাকে তার ব্যবস্থা রাখতে হবে। তাতে বেশ কিছু ইন্সট্রাকটর আর গ্রাউন্ডসম্যানের চাকরীও হবে। আর ক্রীড়া ক্ষেত্রের উন্নতি তো আশা করা যায়ই। সংস্কৃতি ক্ষেত্রটা নিয়ে ভাবনার অবকাশ তো আরো বেশি। যখন সংস্কৃতিটা আবার ব্যবসার অংশও হয়ে উঠেছে। গান-নাটক-চিত্রকলার স্কুলের পেছনে অনেক আনেক বিনিয়োগ আর মনোযোগ দরকার। দেশের টিভি চ্যানেল আর পাইরেসি নিয়ে নতুন ক’রে না ভাবলেই নয়। আমাদের ছেলেমেয়েদের ক্রিকেট খেলা বা অন্য কোনো খেলা আমাদেরকে দেখতে হবে। টিভিতে সেটা দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। খেলাধুলা নিয়ে কী ক’রে টিভি প্রোগ্রাম বানাতে হয় সেটা শেখাতে হবে মিডিয়া স্কুলে। এতদিন সেটা ঠিক মতো হয়নি বলেই আজো আমাদের একটা ভাল স্পোর্টস চ্যানেল নেই।

তরুণদের জানাশোনাতে যেন বৈচিত্র থাকে সেদিকেও নজর দিতে হবে। তাদের কাজের ক্ষেত্র বাড়াতে হবে। এগুলো করার জন্য প্রথমেই যেটা দরকার তা হলো শিক্ষা আর চিকিৎসা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ। সেটা আমরা করতে পারিনি বলেই আজো আমাদেরকে অনেক ব্যাপারেই বাইরের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ছোটখাটো একটা সেতু তৈরীর জন্যও আমাদের তাই বাইরের ইঞ্জিনিয়ারদের সাহায্য নিতে হয়। ২০০৮ থেকে স্বল্প-পরিসরে জাহাজ রপ্তানি শুরু করলেও জাহাজ ডিজাইন করার মতো দক্ষতা আজো আমাদের নেই। পোশাক তৈরীতে আমাদের দক্ষতা এখনো নিচের দিকে। আমরা পোশাকের ডিজাইন করি না বললেই চলে। একটা ভাল ফ্যাশন স্কুল আর প্রডাক্ট ডিজাইন স্কুল তৈরী করা খুবই দরকারী এখন। এটা করার জন্য যদি কিছু অবকাঠামোগত কাজ বাদ দিতেও হয় আমি তার পক্ষে। যদিও সবগুলো একসাথে করা সম্ভব বলে আমি মনে করি। করতে চাই কিনা সেটাই বোধহয় আসল বিষয়। আমি এখানে যেটা বলতে চাইছি সেটা হলো অনেকগুলো ব্যাপার আমাদের যথাযত মনোযোগ পাচ্ছে না ব’লে মনে হচ্ছে।

জুলাই 14, 2017

গুড়িয়ে দিতে যত সুখ, প্রাত্যহিকে তার বিন্দুমাত্র নয়

আইজকা দিসি একটারে ভচকায়ে।
কী কমু ওস্তাদ!
পরথমে তো আমার জানে পানি নাইক্কা,
ঐ হালার ড্রাইভার যত চিল্লায়-
আমি তত চোদনা হয়া বয়া থাকি।
সার্জেন্ট আয়া না ধরলে যে কি হইতো!!
যাউকগা, সার্জেন্ট আয়া দেখে কি-
মালের ইন্ডিকেটর জ্বলতাছে
লগে লগে হালায় পুরা চিমশা।
আর আমার কি ভালা যে লাগছে,
কি কমু ওস্তাদ!!
এক্কেরে নয়া গাড়ি!
আমার গাড়ি হইলে হালায় খানকির পুতের
খবর আছিলো আইজকা…