কথোপকথন : মুখোমুখি পিতা পুত্র…

বেশির ভাগ সময়ই তারা কোন ব্যাপারে একমত হতে পারে না। পিতা যদি বলেন, আজ গরমটা একটু বেশি পড়ছে না? পুত্র হয়তো কোন একটা বই বা পত্রিকার পাতায় ডুবে ছিল বা টিভি দেখছিল, উত্তরে বলবে… গ্রীষ্ম কালে গরম তো পড়বেই, এর আর কম-বেশি কি। পেপারের পাতা উল্টাতে উল্টাতে পিতার হয়তো একটু ধূমপানের ইচ্ছা হল। পিতা সিগারেট ধরানোর সাথে সাথে পুত্র হয়তো বলল… অনেক তো হল এবার সিগারেটটা ছাড়েন। এই জিনিস তো ক্ষতিকর। কিন্তু পিতা তো দমবার পাত্র নন… ধুর এতদিনে যখন কিছু হয়নি, আমার কিছু হবে না, তোরা না খেলেই হবে…

তো এই রকমই চলে প্রায় প্রতিদিনই…. কিছু দিন আগে…

পিতা : তোর তো বয়স হয়ে গেছে… বিয়ে করবি না?
পুত্র : করব না কেন? কিন্তু আমার সাথে বিয়ে বসতে কে রাজি হবে বলেন ?
পিতা : তো, আমাদেরকে বল তোর কেমন মেয়ে পছন্দ… আমরা খোজ খবর করি…
পুত্র : এত খোজ খবর করার কিছু নেই… যে কোন মেয়ে হলেই আমি রাজি…
পিতা : তা হয় নাকি ? শেষে বনিবনা না হলে ?
পুত্র : তখন অন্য ব্যবস্থা…
পিতা : কি ব্যবস্থা ?
পুত্র : শরীয়া ব্যবস্থা… অর্থাৎ চুক্তি বাতিল করে নতুন করে চুক্তি করা…

এই অবস্থায় পিতা প্রথমে কিছুক্ষণ বাকরুদ্ধ হয়ে থাকেন। কিন্তু সে অবস্থা দুঃখজনকভাবে এবং চিরকালই ক্ষণস্থায়ী। এবং এর পরপরই শ্রদ্ধাভাজন পিতাকুলের প্রায় সবাই যা বলেন তাই হল… আগামী দুই দিন তুই আমার চোখের সামনে আসবি না… সাথে সাথে স্বগক্তির মত করে বলতে থাকবেন, কত্তবড় সাহস- বলে কিনা নতুন করে চুক্তি করা?

দুই দিন পুত্র পিতাকে খানিকটা এড়িয়ে চললেও সেটা তো আর সম্ভব হয়ে ওঠেনা পুরাপুরি। তবে কথোপোকোথন বন্ধ থাকে এবং পুত্রের খবরা খবর পিতাকে নিতে হয় পুত্রের মাতার কাছ থেকে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যেহেতু মাতারা এই ধরণের পরিস্থিতিতে অসত্য তথ্যই বেশি দিয়ে থাকেন তাই পিতাকেই আবার পুত্রকে কাছে ডাকতে হয়… কি রে মাথা থেকে ঐসব উল্টা পাল্টা চিন্তা ভাবনা গেছে? পুত্র সাধারণত মৌনব্রতই পালন করে তখন। অতপর..

পিতা : শোন বাবা, তোর বংশে কেউ কোন দিন দ্বিতীয় বিয়ে করেনি। আর বয়স হয়ে গেলে সবারই বিয়ে করতে হয়। আমি করেছি। তোর দাদা করেছে। আমার দাদাও করেছে। তো তোর যখন বয়স হয়েই গেছে, আমরা তোর জন্য মেয়ে দেখা শুরু করেছি। এখন ঐসব উল্টা পাল্টা চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে বল তোর কোন আপত্তি আছে কিনা?

কিন্তু পুত্র আজ কোন কারণে হু-হা কিছুই বলে না। এক্ষেত্রে মাতারা মৌনতাই সম্মতির লক্ষণ ধরে নিলেও পিতারা কিন্তু নেয় না। তাই তাদের কে বলতেই হয়… কি রে কিছু বলছিস না যে ?

পুত্র : কি বলব ?
পিতা : তুই রাজি আছিস কিনা সেটা বল…
পুত্র : ঠিক বুঝতেছি না, ভাবছি…
পিতা : এতে এত ভাবাভাবির কি আছে ? (খানিকটা উষ্মার সাথে)
পুত্র : আমাদের বংশের মুখ তাহলে আর উজ্জ্বল করা হল না…
পিতা : মানে ?
পুত্র : বেশির ভাগ উচ্চ বংশের লোকজনকে তো দেখি একাধিক বিয়ে করতে… নবী রাসুল করেছেন…

পুত্রের আর কথা শেষ করা হয়ে ওঠে না… এই … এর মা, ওরে আমার সামনে থেকে যেতে বল… ওর আগামী দুই দিন ভাত বন্ধ… কত্তবড় সাহস বলে কিনা… …

রাতে খাবার টেবিলে দেখা যায় পুত্র হাত গুটিয়ে বসে থাকে । পিতা কয়েক গাল খেয়ে উঠে যান। মাতা তো ভাতে হাতই দেন না। পুত্রের জন্য পরোটা বানাতে বসে যান তিনি। আর বলতে থাকবেন যেমন বাপ তেমন ছেলে… দুই জন মিলে আমার জীবনটা ভাজাভাজা করে ফেলল… কিছুক্ষণ পরে পুত্র চরম আয়েশ করে পরোটা মাংস খায়। পাশে বসে মাতা খানিকটা খাবার খেয়ে স্বামীর জন্য দুধ গরম করে নিয়ে যান… তখন পিতা , বান্দরটা খেয়েছে ? মাতা হু বলে দুধের গ্লাসটা এগিয়ে দেন… পিতা হাত বাড়িয়ে সেটা নেন।

যথারীতি দুই দিন পর পুত্র এক পেয়ালা চা আগিয়ে দিয়ে পিতাকে বলবে… আপনার চা। দুই জন চুপচাপ কিছুক্ষণ চা খাবে। এক পর্যায়ে পিতাই বলবেন… এই খবরটা পড়েছিস আজ ?….

One thought on “কথোপকথন : মুখোমুখি পিতা পুত্র…”

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s