আমি ভালোবাসি ‘আরম্ভ’কে

আমি ভালোবাসি ‘আরম্ভ’কে। আমি অবাক হ’য়ে যাই কোনো কিছুর শুরু দেখে। ভাবি, শুরুই এগিয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা দেয়। এ ছাড়া কিছুই হতো না, হতে পারত না। আমি শেখাকে শ্রদ্ধা করি। কারণ এটাই প্রকৃত প্রেরণা। এটা শুধুই দায়িত্ব পালন নয়। এ আমাদের অন্তর্গত। শেখার ইচ্ছা বা বাসনাই অন্যতম সেরা অনুপ্রেরণা-দানকারী। শিক্ষা ব্যবস্থা আমাকে তেমন একটা অনুপ্রাণীত করে না। যতটা করে শিক্ষা। শিক্ষা-ব্যবস্থা সবসময়ই কোনো না কোনো ভাঙা-গড়ার ভেতর দিয়ে যায়। শিক্ষার প্রকৃত সত্তা কোনো ব্যবস্থাই ধারণ করতে পারে না।

আরম্ভ নিয়ে ভাবতে গিয়ে আমার মাথায় পুরোনো একটা ভাবনা এসেছে। ঠিক উপলব্ধি নয়, নানা-কিছুর প্রভাবে বস্তু আমার কাছে অবসন্ন আলো হিসেবে ধরা দেয়। যে আলোর নির্গমন আমার ভাল লেগেছিল তাকে আমার দুই ভাই ব’লে মনে হয়। যদিও আমি জানি, দুই ভাই ব’লে আদতে কিছু নেই। এমনকি এক ভাইও। কিন্তু আমি একজনকে হয়ে উঠতে/প্রকাশিত হতে (to be/to express) এবং একজনকে (আমি বলছি না অন্যজনকে) গঠিত হতে দেখেছি (to be/to be)। শেষের জন অনালোকিত আর প্রথমজন আলোকিত। এই আলোকিত প্রথমজনকে উন্মত্ব আগুন হিসেবে ভাবা যেতে পারে, যা কিনা বস্তুর ভেতরে থেকে তাতেই নিজেকে ক্ষয় করে। আমার মতে বস্তু হলো অবসন্ন আলো। পর্বতমালা, পৃথিবী, ঝর্ণারা, বাতাস এবং আমরা সবাই অবসন্ন আলো। এটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। বেঁচে থাকার বাস্তব চালিকাশক্তি হলো এই হয়ে ওঠা/প্রকাশিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা। আমার মনে হয় না আর কিছু আছে।

নিরবতাকে প্রকাশ করার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমি একটা ডায়াগ্রাম আঁকা শুরু করি। আর আলোর জন্য আর একটা। আলোর দিকে নিরবতার যাত্রাপথে কিমবা নিরবতার দিকে আলোর যাত্রাপথের মাঝে দাড়িয়ে আছে অসংখ্য দরজা। প্রতিটি দরজাই এক একটি একক। আমাদের সবারই এমন একটা দরজা আছে যেখানে আলো আর নিরবতার পরষ্পর পরিচয় হয়। আর এই দুয়ারের যেখানে এই পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেটাই অনুপ্রেরণার স্থল। অনুপ্রেরণা হলো সেই জায়গা যেখানে হয়ে ওঠা/প্রকাশিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবিক হয়ে ওঠে। এটাই সত্তার নির্মাতা। এখানেই শিল্পের বাস, expressive urge  এর কেন্দ্রবিন্দু এবং প্রকাশিত হওয়ার উপায়।

আমার প্রথম করা ডায়াগ্রামটা বা-দিক থেকে ডান-দিকে পড়তে হতো। আমি আপনাদেরকে যেটা দেখাচ্ছি সেটা তার একটা প্রতিবিম্ব, যেন আপনারা এটাকে পুরোপুরি বুঝতে না পারেন। এর ‌আসল উৎস থেকে আরো দারুন কিছু বের করে আনার ইচ্ছা থেকে আমি এমনটা করছি। এর ভেতরে আপনারা আরো সূক্ষ্ন কিছু খোঁজার চেষ্টা করতে পারেন। আমি কিন্তু আবারো একটা উৎসের খোঁজ করছি, কোনো একটা শুরু’র খোঁজ করছি। আমি স্বভাবগত ভাবেই শুরু’কে আবিস্কার করতে চাই। আমি বিলেতের ইতিহাস পছন্দ করি। আমার সংগ্রহে এর অনেকগুলো খণ্ড (ভলিউম) আছে। কিন্তু আমি কখনো প্রথম খণ্ডের বেশি পড়িনি। তারও প্রথম তিন বা চার অধ্যায়ের বেশি আগাতে পারিনি। আমার উদ্দেশ্য আসলে শূণ্যতম খন্ড (ভলিউম জিরো) কে পড়ে ফেলা। কিন্তু সেটা কখনো লেখা হয়নি। বিদঘুটে মনই শুধু এমন কিছু খুঁজে ফেরে। আমি বলতে চাই, এমন কিছুই মানসিকতা তৈরীর ইঙ্গিত দেয়। আমাদের প্রথম সৌন্দর্যের অনুভূতি (পরম সুন্দর বা খুব সুন্দর নয়) শুধুই সুন্দর। এ মুহূর্ত বা আলোক-প্রভাকে যা-ই বলি না কেন, তা কিন্তু দারুন ছন্দবদ্ধ । এই সৌন্দর্যের আলোক-প্রভার পাদদেশ থেকেই বিস্ময়ের আবির্ভাব। বিস্ময়ের অনুভূতি আমাদেরকে জ্ঞানের দিকে ধাবিত করে বলেই তা এতটা গুরুত্বপূর্ণ। নভচারীরা মহাশূণ্যে গিয়ে পৃথিবীকে যখন একটা নীলাভ গোলাপী মার্বেলের মতো দেখল, আমার বোধ হ’লো কোনো কিছুই জানার (knowing) থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। জ্ঞান সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো, কিন্তু নিশ্চিত ভাবেই জানার প্রক্রিয়াটা  ছিলো না। Yet strangely enough Paris or Rome – the wonderful works of men, all of which came from circumstantial conditions – somehow diminish the importance of the mind as compared to the sense of wonder that seems to have prevailed at that time. I do think, however, that a toccata and fugue remained, because of the distance from measure that was kept. অপরিমেয় যতটা আচ্ছন্ন ক’রে রাখে মনকে, পরিমেয় তার সামান্য পরিমাণও না।

(অসমাপ্ত)… কানের লেখার অনুবাদ প্রচেষ্টা…

 

One thought on “আমি ভালোবাসি ‘আরম্ভ’কে”

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s