যাপিত জীবন – ২০

এই যে সময়ের স্রোতে মিশে যাওয়া জীবন, তাতে কি আলাদা কোনো তরঙ্গ ওঠে? তার কোনো কোনো ঢেউকে কি আলাদা করে চিনে নেওয়া যায়? যদি না যায়, সেই জীবনকে কি জীবন বলা যাবে? অর্থাৎ যে জীবন মহাস্রোতে হারিয়ে যায় তার কি কোনো গুরুত্ব থাকে? নাকি যে জীবন সময়ের স্রোতে নতুনতর কোনো তরঙ্গ তুলতে পারে না- সে বিস্মৃত হবেই? বিস্মৃতির ভয় মানুষকে কতটা তাড়িয়ে বেড়ায়? সম্ভোগের আকাঙ্ক্ষা যতটা তাড়িয়ে মারে তার তুলনায় কতটা?

তাড়নাহীন জীবন সুস্থিরতা ধারণ করলেও সুখি হয় কি? সে কি কখনো স্বস্তি পায় যদি সেই জীবনকে প্রকাশ করতে না পারে? যে জীবন মুখরিত হওয়ার সুযোগ পায় না, তা কি প্রকাশমুখ হয়? প্রকাশমুখ জীবন সময়কে ধারণ করে নাকি সময়ই ভর করে মুখরিত সময়ের প্রকাশে? কেমন হবে তার প্রকাশ মাধ্যম? ভাষা? ছবি? সুর? সংগীত? চলচিত্র? স্লোগান? মিছিল? ঝগড়া? তর্ক? হাতাহাতি? গোলাগুলি? সংঘর্ষ? ষড়যন্ত্র? সহানুভূতি? লেনদেন? ব্রান্ড? চাকচিক্য? ফ্যাশন? রং? মেলোডি ? অভিব্যক্তি? …

যা-ই হোক না কেন, জীবনকে প্রকাশিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতেই হবে। নতুবা সে জীবনকে চিনে নেওয়া যাবে না। আর এই প্রকাশিত হওয়ার পথে সময়ের সাথে তার সখ্যতা যদি গ’ড়ে না ওঠে সে প্রকাশ সর্বাঙ্গিন হবে না। হয়তো সঠিকও হবে না। একটা সময়ের মানুষ যদি অন্য সময়ের সুরেই গেয়ে যায় শুধু নতুন সময় ব’লে আদতে কিছু থাকবে না। পুরোনো ধাচে নতুন ছবি যতই আঁকা হোক সে ছবি শেষ পর্যন্ত পুরোনো ছবিই। শুধু বক্তব্যে নতুনত্ব আনলেই হবে না, পালটাতে হবে তার ভাষাও। ভাষাকে আটকে রাখা যাবে না। যাবে না তাকে সীমাবদ্ধ করা। আর তাই তুলতে হবে নতুন তর্ক। করতে হবে ঝগড়া। চাই নতুন অস্ত্র। পুরোনো হাতাহাতি গোলাগুলিতে আজ আর সভ্যতার চিহ্ন খুঁজে পাই না। পাই শুধু বর্বরতার ঝনঝনানি। চাই নতুন ঝঙ্কার। চাই নতুন তরঙ্গ। চাই নতুন জীবন।

অন্যের জীবন যাপন করে আর সুখ কই?

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s