ভাবনায় স্থাপত্য – পিটার জুমথর (চতুর্থ পরিচ্ছেদ)

The body of architecture
স্থাপত্যের অবয়ব
১৯৯৬


জাতীয় জাদুঘরের কিউরেটর আমার একটা সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। বুদ্ধিদীপ্ত আর অপ্রত্যাশিত সব প্রশ্ন করে তিনি আমাকে হতবাক করার চেষ্টা করছিলেন। আমি স্থাপত্য নিয়ে কি ভাবতাম? আমার কাজের কোনদিকগুলো আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ? এইসবই জানতে চাচ্ছিলেন। সাক্ষাৎকারটা রেকোর্ড হচ্ছিল। আমি আমার মতো ক’রে যতটা পারি বলেছি। কিন্তু সাক্ষাৎকার শেষে আমার নিজের উত্তরে আমি নিজেই সন্তুষ্ট হতে পারিনি।

সেদিন সন্ধ্যায় আমার এক বন্ধুর সাথে পারে কথা বলি। আকি কাউরিসমাকির সাম্প্রতিক চলচিত্র নিয়ে। চরিত্রের প্রতি পরিচালক যে মনোযোগ আর শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন তাতে আমি মুগ্ধ। অভিনেতাদেরকে তিনি কোন কিছুতে আটকে রাখেন না। কোন চিন্তা-ভাবনা প্রকাশ কারার জন্যও ব্যবহার করেন না। বরং তাদেরকে এমনভাবে আলোকিত করে উপস্থাপন করেন যে আমরা সহজেই তাদের বৈশিষ্ট্য কিমবা গোগনীয়তা বুঝে যাই। কাউরিসমাকির শৈলী তার চলচিত্রে একটা উষ্ঞতার অনুভূতি এনে দেয়। আমার বন্ধুকে তখন বললাম, এখন বুঝতে পারছি সকালের সাক্ষাৎকারে আমার কি বলাটা ঠিক হতো। কাউরিসমাকি যেভাবে চলচিত্র বানান, আমি আসলে সেই ভাবেই বিল্ডিং বানাতে চাই।


যে হোটেলে আমি থাকছিলাম সেটাকে নতুন করে সাজিয়েছিলেন একজন জনপ্রিয় ফরাসী স্থপতি। ওনার কাজের সাথে আমি আগে পরিচিত ছিলাম না। পুরানো ধাচের কাজ করেন উনি। এই ধরণের কাজের প্রতি আমার আগ্রহ নেই। কিন্তু হোটেলে ঢোকার পরপরই তার তৈরী করা পরিবেশ আমার উপর প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। কৃত্রিম আলো হলঘরটাকে যেন মঞ্চের মতো করে আলোকিত করে রেখেছে। কোথাও আলো আছে আবার কোথাও বা অন্ধকার। অভ্যর্থনার জায়গাটা বেশ উজ্জ্বল। দেয়ালের কুলুঙ্গিগুলোতে বিভিন্ন ধরণের পাথর। গ্যালারির দিকে উঠে যাওয়া বড়সড় সিড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে লোকজন চকচকে সোনালী দেয়ালের পাশে হয়তো একটু দাড়ায়। উপরের দিকের ড্রেস-সার্কেল বক্সে হালকা কিছু খাওয়ার জন্য কেউ কেউ একটু বসে নেয়। অবশ্য এগুলো বেশ ব্যায়বহুল। ‘প্যটার্ন ল্যাংগুয়েজ’ এর লেখক আলেকজান্ডার এটা দেখে নিশ্চয় খুশি হতেন। যে ধরণের পরিসরিক ব্যবস্থাতে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই স্বচ্ছন্দ বোধ করে তার বর্ণনা আছে এই বইটাতে। হলঘরের বিপরীত দিকের একটা বাক্সে আমি বসেছিলাম, যেন একজন দর্শক যে নিজেকে ডিজানারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আবিস্কার করে। নিচের দিকে তাকিয়ে লোকজনের আসা-যাওয়া দেখতে আমার ভালই লাগল। আমি যেন বুঝে উঠতে পারলাম এই স্থপতির সফলতার কারণ ।


হৃদি বলছিল- তার উপর ফ্রাঙ্ক লয়েড রাইটের একটা ছোট্ট বাড়ীর বেশ প্রভাব আছে। বাড়ীটা সে অনেক আগে দেখেছিল। ছোট ছোট ঘর আর বেশ নামানো সিলিং ছিল বাড়ীটাতে। ছোট্ট লাইব্রেরিতে অদ্ভুতভাবে আলো আসতো। প্রচুর জড়োয়া স্থাপতিক কারুকাজ করা ছিল। পুরো বাড়ীটা একটা সুষ্পষ্ট আনুভূমিকতা নিয়ে হাজির হতো যেমনটা আগে কখনো দেখেনি। বেশ বয়স্ক একজন মহিলা সেখানে বাস করতেন। আমার মনে হয়েছিল বাড়ীটাতে গিয়ে আমার দেখার কিছু নেই। মেয়েটা যা বোঝাতে চাচ্ছিল তার সাথে আমি আগে থেকেই পরিচিত। বাড়ীর ব্যাপারে সে যে অনুভূতির কথা বলছিল সেটাও আমার জানা।


একটা স্থাপত্য প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়া স্থপতিদের কিছু বিল্ডিং বিচারকদেরকে দেখানো হচ্ছিল।

(আংশিক)

 

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s