নগরী ঢাকা-৬

নগরী হিসেবে ঢাকার আয়তন বাড়ছে। বাড়ছে বেশ দ্রুতই। আর সেটা প্রায় সব দিকেই। আজ শুধুই চোখ বুলানোর মতো ক’রে ঢাকার উত্তর আর পূর্ব দিকের বেড়ে ওঠার ছবি দেখবো। ছবিগুলো গুগল ম্যাপ থেকে নেয়া। ইট ভাটাগুলোর ছবি নেয়া অক্টবরের ১০ তারিখে। ঢাকা, পূর্বাচল আর উত্তরা থার্ড-ফেইজের ছবিগুলো নেয়া অক্টবরের ২১ তারিখে। অর্থাৎ আজই। সকল ছবির উপরের দিকটি উত্তর দিক।

শুরুতেই প্রথম ছবিটা দেখে নিই। এতে পূর্বাচল, জলসিড়ি আবাসন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা আর উত্তরা থার্ড-ফেইজের অবস্থান এবং বেড়ে ওঠা বেশ স্পষ্টভাবেই বোঝা যাচ্ছে।

Expanding Dhaka 01
ঢাকার উত্তর আর পূর্ব দিকের স্যাটেলাইট ভিউ : ২১.১০.১৭ তারিখে নেয়া

উত্তরা থর্ড-ফেইজ একটি মিশ্র-ডিভেলপমেন্ট এরিয়া। অর্থাৎ এখানকার প্লটগুলো বিভিন্ন ধারণের ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে করা হয়েছে। সরকারীভাবে বা রাজউকের উদ্যোগে বেশ বড় আকারে হাউজিং প্রকল্প করা হচ্ছে এখানে। একটা ব্লকের এ্যাপার্টমেন্ট-বিল্ডিংগুলোর অনেকগুলোরই নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। যদিও এই হাউজিংকে সাপোর্ট দেয়ার মতো প্রকল্পগুলোর নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি এখনো। অনেকগুলো প্লট রাখা হয়েছে ইন্সটিটিউশনাল। কিছু কিছু বরাদ্দ দিয়েও দেয়া হয়েছে। যেমন বিজিএমইএ। তাদেরকে ১১০ কাঠার একটা প্লট দেয়া হয়েছে। তারা সেখানে নির্মাণ কাজও শুরু করেছে। যদিও রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প সংশ্লিষ্ট স্থপতির নাম সেখানে প্রদর্শন করা হচ্ছে না। ধারণা করা যায় আবারো অবৈধ উপায়ে বিজিএমইএ কোনো বিল্ডিং নির্মাণ করছে। রাজউক হয়তো দেখেও দেখছে না।

এবার একটু চোখ দিই পূর্বাচলের দিকে। নিসন্দেহে এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শহর-উন্নয়ন প্রকল্প। বেশিরভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে এই প্রকল্পের একটা অদ্ভুত ব্যতিক্রম হলো, এটা কোনো নিচু এলাকাতে বালি-ভরাট ক’রে গড়ে তোলা হচ্ছে না। এই এলাকাটা প্রাকৃতিকভাবেই উঁচু জায়গা ছিলো। উন্নয়নের জন্য বরং বিভিন্ন স্থানের মাটি কেটে নিচু ক’রে পুরো এলাকাটাকে সমান করা হচ্ছে। এই এলাকাটার ভেতরে একটা গ্যাসক্ষেত্রও আছে। তুরাগ নদীর বেশ কয়েকটা শাখা-প্রশাখা এর ভেতর দিয়ে চলে গিয়েছে। ব্যাপারটাকে প্রকল্পে কিভাবে বিবেচনা করা করেছে সেটা আমরা পরের কোনো একটা ব্লো-আপে দেখবো।

বসুন্ধরা আবাসিক প্রকল্পটি নতুন নয়। বেশ কয়েক দশক ধ’রেই বেসরকারী উদ্যোগে একটু একটু ক’রে বেড়ে উঠছে এলাকাটি। মূলত নিচু জায়গা বালি-ভরাট ক’রেই এটি করা হয়েছে। সরকার বা রাজউকের এটাতে সাই আছে বলেই জানা যায়। এমনকি তুরাগের একটা শাখাকে যে পুরাপুরি ভরাট করে ফেলা হয়েছে – সে ব্যাপারেও কোনো আপত্তির কথা জানা যায় না। মূলত আবাসিক এলাকা হিসেবে বলা হলেও দিনে দিনে এটা মিশ্র আচরণ নিতে শুরু করেছে। অনেকগুলো বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে এখানে। আধুনিক হাসপাতাল, কনভেনশন সেন্টার, গ্রামীনফোন সেন্টারের মতো অফিস বিল্ডিং গড়ে উঠেছে এরই ভেতর। চাহিদা থাকায় এর পেরিফেরিতে গড়ে উঠেছে এই সময়ের সবচেয়ে বড় বিপনিকেন্দ্র, যমুনা ফিউচার পার্ক। বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারও এই আবাসিক এলাকাটির পেরিফেরিতে চালু হয়ে গিয়েছে। সে চাহিদার কারণেই মূলত।

বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদ অনুযায়ী জলসিড়ি আবাসন প্রকল্পটি ২০১০ সালে সরকারকর্তৃক গৃহীত ড্যাপে উল্লখিত নিম্নভূমি বা জলাভূমি এলাকাতে অবস্থিত। সরকার তবুও এটা অনুমোদন দিতে আগ্রহী ব’লেই জানা যাচ্ছে বিভিন্ন পত্রিকা মারফত। এটি পুরোপুরি আবাসন প্রকল্প হবে না শেষ পর্যন্ত আরো একটি মিশ্র উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে- সেব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারিনি এখনো পর্যন্ত।

Purbachal 21.10.17
পূর্বচল আবাসিক এলাকার ২১.১০.১৭ তারিখের স্যাটেলাইট ভিউ

পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পটি মূল ঢাকার সাথে এখনো পর্যন্ত একটি মাত্র ৩০০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা দিয়ে সংযুক্ত। যে রাস্তাটা আবার পুরোপুরি প্রকল্পটির একেবার মাঝ বরাবর দিয়ে না গেলেও প্রকল্পটিকে যে দুইটি ভাগে ভাগ ক’রে ফেলছে সেটা সুস্পষ্ট। প্রকল্পটির পূর্বদিক দিয়ে ঢাকা-সিটি-বাইপাস চলে গিয়েছে। তবে সেটিও প্রকল্পের সীমানা নয়। বাইপাসটির আরো পূর্বদিকেও প্রকল্পটি বিস্তৃত। প্রথম দিকে একে আবাসিক প্রকল্প হিসেবে বলা হলেও এখন এটাকে একটা মিশ্র-ডিভেলপমেন্ট হিসেবেই গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকার ১৪২ তলা বাণিজ্যিক ভবন তৈরী করার কথা বলছে এই প্রকল্পে। যদিও এখনো পর্যন্ত তার সাইট নির্দিষ্ট ক’রে জনসাধারণকে সরকার বা রাজউক কারো পক্ষ থেকেই বলা হয়নি। জাতীয় ক্রিড়া-কমপ্লেক্সের জন্য বেশ খানিকটা জায়গা রাখা হয়েছিল যেখানে সেখানে এখন বড়সড় একটা স্টেডিয়াম করার পরিকল্পনা করছে সরকার। তাতে ক্রিড়া-কমপ্লেক্সের যে মূল আইডিয়া ছিলো তা ব্যাহত হবে নিশ্চত ভাবেই।

কোনো ধরণের মেট্রো-রেল দিয়ে প্রকল্পটি এখনকার ঢাকা শহরের সাথে সংযুক্ত হবে কিনা তার কোনো নির্দেশনা ম্যাপ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না এখনো। প্রকল্পের বিজ্ঞাপনেও এমন কিছুর উল্লেখ দেখা যায়নি। এত বড় একটি প্রকল্পের সাথে বর্তমানের ঢাকা নগরীর যোগাযোগের ব্যাপারটা ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরী করতে পারে ব’লে মনে হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। পূর্বাচল সংলগ্ন অন্য দুইটি বড় আবাসিক প্রকল্প, বসুন্ধরা এবং জলসিড়ির সাথে এই প্রকল্পের সড়ক যোগাযোগের ব্যবস্থাটা কেমন হবে সেটাও ম্যাপ দেখে বোঝার বিশেষ সুযোগ নেই। আন্তঃনগর সংযোগের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়।

Bridges in Purbachal 21.10.17 A
পূর্বাচল আবাসিক এলাকার একটি ব্লো-আপ ভিউ : ২১.১০.১৭ তারিখে নেওয়া

রাস্তার প্যাটার্ন দেখলে প্রথমেই যেটা মনে আসে সেটা হলো, এখানে এগজিস্টিং যে নদী বা খালগুলো আছে সেটা মাথায় নিয়ে প্রকল্প ডিজাইন করা হয়নি। রাস্তাগুলো বেশির ভাগই সরলরেখার। অল্প যে সামান্য কয়েকটা রাস্তা আকাবাঁকা করা হয়েছে তা ভূমিরূপ অনুযায়ী করা হয়নি। হয়েছে একেবারেই খামখেয়ালি ভাবে। একটা বিষয় না বললেই নয়, তা হলো প্রকল্পে সেতুর সংখ্যা। খুব অল্প একটা জায়গার ভেতরে এত বেশি সংখ্যক সেতু তৈরীর কারণটা বুঝে ওঠা বেশ কঠিন। আবার সেতুগুলোর জায়গাতে নদী বা খালের প্রস্থও কমিয়ে আনা হয়েছে। এটা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার অবকাশ আছে ব’লে মনে করি। এত বেশি সংখ্যক সেতুর কারণে প্রকল্পের খরচ যে বেড়ে গিয়েছে সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। আবার প্রকল্পের গুণমান বেড়েছে বলে মনে হয় না। তার উপর নদী বা খালের পাড় ঘেসে রাস্তা তৈরী করা হয়নি এখানে। এতে নদী দখলের যে প্রবণতা আমাদের দেশে দেখা যায় তার সুযোগ রয়েই গেলো।

(রবার্ট ভেঞ্চুরি, ডেনিস স্কট ব্রাউন আর স্টিভেন ইজেনার মিলে ১৯৭২ সালে  ‘লার্নিং ফ্রম লাস ভেগাস- শিরোনামে একটা বই লিখেছিলেন। পূর্বাচল প্রকল্পটি নিয়ে এমন একটা বইয়ের অপেক্ষায় থাকলাম আমি।)

Uttara 3rd Phase 21.10.17
উত্তরা থার্ড-ফেইজের স্যাটেলাইট ভিউ: ২১.১০.১৭ তারিখে নেয়া

এটি সরকারের একটি অগ্রাধিকার প্রকল্প। বিশেষত এর এ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পগুলো। একসাথে এতগুলো এ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে একটা কমপ্লেক্স এর আগে বাংলাদেশে করা হয়নি। বা করা সম্ভব হয়নি। সরকারী বা বেসরকারী কোনো মাধ্যমেই এর আগে এত বড়-স্কেলে আবাসন বা এ্যাপার্টমেন্ট-প্রকল্পের চেষ্টাও করা হয়নি। প্রকল্পটির সাফল্য বা ব্যর্থতা আমাদেরকে অনেক কিছু শেখাবে বলে আশা করা যায়।

uttra_3rd phase
উত্তরা থার্ড-ফেইজের লে-আউট প্ল্যান : রাজউক থেকে সরবরাহকৃত

এই ম্যাপটি রাজউক থেকেই সরবরাহ করা হয়েছে। এই ম্যাপ অনুযায়ী প্রকল্পটি সোনারগাঁও-জনপথ সড়ক দিয়ে পূর্ববর্তী ফেইজের সাথে যুক্ত। আর বেড়িবাধের রাস্তার সাথে দুইটি পয়েন্টে যুক্ত হবে। প্রস্তাবিত এ্যাভিনিউ-২ দিয়ে কোনো ভাবে প্রকল্পটিকে মিরপুরের সাথে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা আছে। তবে মিরপুর ডিওএইচএস আর ক্যান্টনমেন্টের মাঝ দিয়ে সেটা কিভাবে করা হবে তার কোনো দিক নির্দেশনা এখানে নেই। বেড়িবাধের রাস্তাটি এখনো পর্যন্ত দুই-লেইন-বিশিষ্ট এবং ঢাকা-আশুলিয়া মাহাসড়কের সাথে গাবতলীর সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। ফলে রাস্তাটিতে ভারী-গাড়ীর সংখ্যাই বেশি থাকে। প্রকল্পটির সাথে বেড়িবাধের এই রাস্তার সংযোগের ব্যাপারটি নিয়ে রাজউকের ভাবনা আছে বলেই জানি। তবে তা কেমন নিশ্চিত নই এখনো পর্যন্ত। ২১০ ফুট প্রশস্ত বর্ধিত সোনারগাঁও-জনপথের উত্তরপাড়ে মেট্রো-রেলের স্টেশন করার পরিকল্পনা আছে। যার কাজ ইতিমধ্যে শুরুও হয়েছে। অর্থাৎ উত্তরা থার্ড-ফেইজের মেট্রো-রেল ব্যাবহারকারীদের অধিকাংশকেই ২১০ ফুট চওড়া সোনারগাঁও-জনপথ সড়কটি পার হ’য়ে মেট্রো-স্টেশনে যেতে হবে।

ঢাকাকে আয়তনে বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্য নিয়ে নির্মানাধীন এই সব উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য নির্মাণ উপকরণের যোগান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অন্যান্য উপকরণের পাশাপাশি পোড়া-মাটির ইট বাংলাদেশের একটি প্রধাণ নির্মাণ-উপকরণ। উন্নয়ন প্রকল্পের যত কাছ থেকে এই উপকরণগুলো যোগাড় করা যায়, প্রকল্প-ব্যয় কমিয়ে আনতে তা ততটা সহায়ক হয়। আর তাই ঢাকা নগরীর চারপাশেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইটের ভাটা। যার বেশির ভাগই নদীর পাড়ে কিমবা নিচু-এলাকা ব’লে চিহ্নিত জায়গাতে অবস্থিত। এইসব ইট ভাটার চিমনি থেকে বের হওয়া ধোয়াগুলো শহরের বাতাসের দূষণের অন্যতম কারণ। নিচে গুগল-আর্থ থেকে নেয়া ঢাকার আশপাশের কয়েকটি স্যাটেলাইট ভিউ দেখা যাক –

West side of Dhaka- Just passing Gabtoliআমিনবাজারে ঢাকা-সাভার মহাসড়কের দুই ধারের স্যাটেলাইট ভিউ : ১০.১০.১৭ তারিখে নেয়া

 এই ছবিটি ঢাকার পশ্চিমাঞ্চলের। গাবতলী পেরিয়ে আমিনবাজার পৌছাতেই রাস্তার দুই পাশের নিচু এলাকাতে এই ভাবেই গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইটের ভাটা। শহর গড়ে তোলার জন্য আমাদের ইটের প্রয়োজন অনেক। কিন্তু এই ভাবে প্রাকৃতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমিকে নষ্ট ক’রে আমরা হয়তো সস্তায় ইট পেয়ে যাচ্ছি। তাতে আমাদের নির্মাণ-খরচ কমিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে বটে, কিন্তু সার্বিক ক্ষতির হিসাব করা হচ্ছে না ব’লেই তা যে খুব কম তা কিন্তু নয়।

Gazipur
গাজীপুর থেকে চন্দ্রা যাওয়ার পথের দুই পাশ : বংশি নদী সংলগ্ন : ১০.১০.১৭ তারিখে নেয়া

 উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে গাজীপুর থেকে চন্দ্রা হয়ে টাঙ্গাইল যাওয়ার পথে বংশি নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে শতাধিক ইটের ভাটা। ইট-ভাটাগুলো গড়ে উঠেছে সবচেয়ে উর্বর জমিতে। একেবারে নদীর পাড়ের পলি-জমা মাটিতে। অথচ নদীর পাড়ের এই জায়গাই হতে পারতো আবাসিক এলাকার জন্য সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত। চাষাবাদের কথা না হয় বাদই দিলাম।

periphery of Narayanganj
বুড়িগঙ্গা আর ধলেশ্বরীর মিলন স্থানের স্যাটেলাইট ভিউ : ১০.১০.১৭ তারিখে নেয়া

 উপরের চিত্রটি ঢাকার দক্ষিণ-পূর্ব কোণের। নারায়নগঞ্জ শহরের কাছাকাছি এবং ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে। এই ইটের ভাটাগুলো থেকেই ইট তৈরী ক’রে সেগুলোকে খানিকটা নৌপথ বেয়ে, খানিকটা সড়কপথ ধ’রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উপরের ঐসব উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সাইটে। নিচের ছবিটি ধলেশ্বরী থেকে বুড়িগঙ্গাতে ঢোকার মুখে লঞ্চ থেকে মাস তিনেক আগে তোলা।

IMG_20170724_061219
ধলেশ্বরী থেকে বুড়িগঙ্গার দুই পাড়ের চিত্র

 পূর্বাচল সংলগ্ন শীতলক্ষা নদীর দুইধারও এমনটা হওয়ার দিকেই যাচ্ছে। নিচের ছবিটি তারই প্রমাণ।

bank of shitalakshya-21.10.17
শীতলক্ষার দুই পাড়ে গড়ে ওঠা ইট ভাটার স্যাটেলাইট ভিউ : ২১.১০.১৭ তারিখে নেয়া

পূর্বাচল, জলসিড়ি আর বসুন্ধারা এলাকার প্লটগুলোতে যখন পুরোদমে নির্মাণ কাজ শুরু হবে তখন শীতলক্ষার পাড়ের চিত্র যে আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে সেটা মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে।

উপরের ছবিগুলো থেকে আমরা খুব সহজেই কিছু প্যাটার্ন আবিস্কার ক’রে নিতে পারবো। কয়েকটা বলি-

১. উন্নয়ন প্রকল্পে এগজিস্টিং ভূমিরূপ পরিবর্তন করার প্রবণতা লক্ষণীয়
২. প্রকল্পগুলোর সবই প্লট-কেন্দ্রিক
৩. পাশ্ববর্তী উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে সমন্বয়হীনতা প্রকটভাবে লক্ষণীয়
৪. মিশ্র-ব্যবহার উন্নয়ন প্রকল্প (প্রকল্পে ভূমি ব্যবহারের ধরণ বহুবিধ)
৫. উন্নয়ন প্রকল্পের আশপাশের এলাকার উপর প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর প্রভাব দৃশ্যমান
৬. প্রকল্পের রাস্তাগুলো তথা জোনিঙের ব্যাপারে ভূমি-রূপের বিবেচনা অনুপস্থিত
৭. প্রকল্প-ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য ডিজাইনে বিবেচনা নেই
৮. সবগুলো প্রকল্পেই কনটেক্সটের গুরুত্ব উপেক্ষিত

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s