প্রবচন – ২৫

১.
বিশেষ কোনো একজন ব্যক্তি একটা জায়গায় হেগেছিল, মুতেছিল, সেক্স করেছিল, বাচ্চা পয়দা করেছিল বা মরে গিয়ে পচে গিয়ে পোকামাকড়ের খাবার হয়েছিল ব’লে জায়গাটা পবিত্র হ’য়ে উঠেছিল – এমন আইডিয়ার গূঢ় ব্যাপারটা আজো বুঝে উঠতে পারলাম না, শুধুমাত্র বিপুল সংখ্যক মানুষকে বোকা বানাতে সফল হওয়ার ব্যাপারটা ছাড়া।

২.
যে প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক মতো কাজ করেনি তাকে বিলুপ্ত বা পরিবর্তীত না করলে তারা পরবর্তীতে আরো বড়সড় ক্ষতি ডেকে আনে। যেমনটা আনছে বর্তমানের বেশ কিছু ব্যাংক। যেমনটা এনেছিল বেশ কিছু সরকারী পাটকল, চিনিকল, কাপড়কল বা অন্য ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলো।

৩.
ইয়াসমিনের ধর্ষণ আর হত্যার মামলার বিচারের রায় কর্যকর করা হয় ২০০৪ সালে। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৪ সাল। আট বছরের কিছু বেশি সময়। ইয়াসমিনের হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সে মৃত্যুর বিচার হয়েছে কিনা জানা হয়নি। ১৯৯৮ সালে খুন হওয়া শাজনীনের হত্যা-মামলার রায় কর্যকর হয়েছে ২০১৭ সালের নভেম্বরে। শাজনীনের বাবা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী। তারপরও বিচার পেতে সময় লেগে গিয়েছে ১৯ বছর। যে বিচার ব্যবস্থায় বিচার পেতে এতটা সময় লাগে তাকে নিয়ে উপহাস না করাটাই তাকে এক ধরণের অবমাননা করা।

এরশাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ সে সেনাপ্রধান হয়েও সরকারী ক্ষমতা দখল করেছিল। আমাদের বিচার ব্যবস্থা এই অপরাধের জন্য এরশাদকে কখনো বিচারের মুখোমুখিও করেনি। ধিক সেই বিচার ব্যবস্থাকে। ধিক সেই বিচার ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা লোকগুলোকে।

আমরা ব’লতে পছন্দ করি যে, যেই যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবন। বাংলাদেশে যেই সরকার গঠন করে সেই লুণ্ঠনকরী হয়ে ওঠে। অথচ ৬০/৭০ জন মন্ত্রী বা ক্ষমতাশালী লোক আর কতটা লুণ্ঠন করতে পারে? যাও বা পারে সে সরকারী কর্মচারীদের বদৌলতে। আমাকে তো পুলিশকে ঘুম দিতে হয়েছে পাসপোর্ট করতে গিয়ে। রাজউকে ঘুষ দিতে হয়েছে ড্রয়িং জমা দিয়ে। একবার ঢাকা বোর্ড থেকে সার্টিফিকেট তুলতে গিয়েও ঘুষ দিতে হয়েছে। বিচার ব্যবস্থা কয়টা সরকারী কর্মচারীকে বিচারের মুখোমুখি করেছে?

অভিজ্ঞতায় জানি মফস্বলের খুব কম বিচারকই ঘুষের লেনদেন করেন না। বছরের পর বছর ধরে এটা চলে আসছে। আদালত কতজন বিচারককে বিচারের মুখোমুখি করছেন এই বাংলাদেশে?

বিচার পেতে সময় লাগে অনেক। তার উপর অনেক আইনই বৈষম্য সৃষ্টির কারণ। যেমন সম্পত্তি হস্তান্তর আইন। আয়কর আইন। বৈষম্য সৃষ্টিকারী আইন কোনো আইন হতে পারে না। একে অসম্মান করাটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একে প্রতিরোধ করাটা আমাদের কর্তব্য। আমাদেরকে বলতেই হবে এইসব আইনে পরিবর্তন আনতে হবে। এই বিচার ব্যবস্থা অসুস্থ। একে পালটাতে হবে। বিচার পেতে এত সময় লাগতে দেওয়া যাবে না।

বিচারের এই দীর্ঘসূত্রীতা এতদিন শুধু উকিল, মোক্তার আর বিচারকদের বিত্ত-বৈভবই বাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশে দাড়িয়েছে কমই। এই বিচার ব্যবস্থা আর আইনকে অসম্মান না করাটা প্রকারন্তরে নিজেদেরকেই অসম্মান করা।

৪.
মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও যে লোকগুলো অমরত্বের প্রলোভন দেখিয়েছিল মানবসমাজকে, তাদের স্মৃতিই বয়ে বেড়ায় অভাগা অনুসারীরা।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s