বাংলাদেশে বাসস্থান পরিকল্পনা – ০১

আমরা অনেকেই মনে করি মানুষের জন্য বাসস্থান একটি মৌলিক অধিকার। আমাদের সংবিধানে সেটার উল্লেখও আছে। যেহেতু সংবিধান একটি রাষ্ট্রীয় বিষয়, অর্থাৎ রাষ্ট্র থাকলে তার জন্য একটা সংবিধানের দরকার পড়ে, সেহেতু সংবিধানে উল্লেখ থাকা বিষয়গুলোর ব্যাপারে রাষ্ট্রের কিমবা রাষ্ট্রযন্ত্রের কিছু ভূমিকা আছে ব’লে ধ’রে নেওয়া যায়। ভূমিকাটা কেমন হবে সেটা নির্ভর করে রাষ্ট্রের প্রকৃতি আর সামর্থের উপর।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাতে ‘বাজার অর্থনীতি’ বেশ প্রভাব বিস্তার ক’রে আছে। ফলে এখানকার আবাসন প্রকল্পগুলোতেও বাজার অর্থনীতির মূলনীতিগুলো কার্যকর। তার সাথে আছে মানুষের জীবনযাত্রার ধরণের সম্পর্ক। শহুরে-জীবনযাত্রা আর গ্রামীন-জীবনযাত্রার ভেতরে এখানে বিস্তর ব্যবধান আছে। শহুরে-জীবনযাত্রাও কম বৈচিত্রময় নয়। বরং বলা যায়, শহুরে-মানুষের আয়ের সীমাটাতে অনেক কম-বেশি আছে ব’লে তাদের জীবনের প্রয়োজনগুলোর ধরণও নানাবিধ রূপ নিয়েছে। শহরের উচ্চ-আয়ের মানুষের বসতির চাহিদার সাথে এর নিম্ন-আয় আর মধ্য-আয়ের মানুষের চাহিদার হের-ফের অনেক বেশি হওয়াই দুরস্তু। বাজার অর্থনীতি উচ্চ-আয়ের মানুষদেরকে এক্ষেত্রে বেশ খানিকটা সুবিধাও দেয়। আবার প্রান্তিক মানুষেরা যে একেবারে কোনো সুবিধাই পাচ্ছে না তা হয়তো বলা যাবে না। তবে তাদেরকে আরো একটু গোছানো ব্যবস্থা দেওয়া গেলে তা সার্বিকভাবে অর্থনীতির জন্য সহায়ক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

অবশ্য গোছানো ব্যাপারটাই যেন বাংলাদেশে নেই। এদেশে কোনো একটা শহর নেই যাকে গোছানো বা ডিজাইনকৃত বলা যায়। শহরের কোনো কোনো অংশে যদিওবা খানিকটা পরিকল্পনার ছোঁয়া দেখা যায় কিন্তু তা যে সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ নয় তা দ্বিধাহীন ভাবেই বলা যায়। এই ধরণের একটা পরিস্থিতির পেছনের কারণগুলো একটু ডিটেইলে জানা দরকার যদি আমরা আসলেই আমাদের শহরগুলোকে নিয়ে পরিকল্পনা করতে চাই। বড় দাগে দুটো কারণ সহজেই সনাক্ত করা যায়। প্রথমটা হ’লো দেশে শহরকে নিয়ে পরিকল্পনা করার মতো দক্ষ জনবলের ঘাটতি থাকা, আর দ্বিতীয়টা হ’লো শহর-পরিকল্পনার ভেতর দিয়ে যে শহরের বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তিতে বাড়তি মূল্য-সংযোজন (ভ্যালু এ্যাড) করা যায় সে ব্যাপারে আমাদের সিংহভাগ নাগরিকের সামগ্রিক ধারণা না থাকা।

বাংলাদেশের প্রায় সব শহরেই জমির দাম বাড়ছে। সবগুলো শহরেই নতুন নতুন অনেক বিল্ডিং তৈরী হচ্ছে। সে যেমন সরকারী উদ্যোগে, আবার বেসরকারী উদ্যোগেও। সরকারী বিল্ডিংগুলো তৈরীর পেছনে রাজনৈতিক ভূমিকা বড্ড বেশি। অনেক সময় হয়তো বাড়তি প্রয়োজন মেটানোর জন্য পুরনো কোনো সরকারী বিল্ডিঙকে বর্ধিত করা হচ্ছে। তাতে শহরে নতুন কাজের সুযোগ বাড়ছে। তার উপর আরবান সুযোগের সহজ-লভ্যতাও দিনদিন মানুষকে শহরের দিকে টেনে আনছে। সাথেসাথে প্রাকৃতিক পরিবর্তন/বিবর্তনের ফলেও বাড়ছে গ্রাম থেকে শহরে আসা অভিবাসীর সংখ্যা। সব মিলিয়ে শহর বড় হচ্ছে যেমন আয়তনে-কলেবরে, একই সাথে জনসংখ্যার বিচারেও। আর শহরের দিকে ধেয়ে আসা এই মানুষের ঢল বাড়িয়ে দিচ্ছে শহরের আবাসন-অবকাঠামোর চাহিদা। চাহিদার ব্যাপারটা আমরা বেশ প্রকটভাবেই বুঝতে পারছি। তবে সেই চাহিদাকে মেটানোর পদ্ধতি নিয়ে আমাদের খাটুনির পরিমাণ একরকম নগন্যই। এর জন্য এর সাথে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের যেমন দায় আছে তেমনি দায় আছে দেশের নীতিনির্ধারণী মহলের। দেশের মানুষের সামাজিক-সংস্কৃতির ভূমিকা আর সম্পদের প্রকৃতি বুঝে ব্যবস্থা নিতে না পারার অযোগ্যতাও এক্ষেত্রে কম দায়ী নয়।

যেহেতু আমাদের সবগুলো শহর অপরিকল্পিতভাবে (অর্গানিক ওয়ে) গ’ড়ে আর বেড়ে উঠেছে তাই এদের রাস্তার নেটওয়ার্ক খুবই এলোমেলো। ফলে শহরের সার্বিক জমির পরিমাণের অনুপাতে যতটা রাস্তা আছে সেগুলো যতটা কার্যকর হওয়ার কথা তা কখনোই হ’তে পারে না। আঁকাবাকা রাস্তাতে যাতায়াতকে চাইলেও খুব একটা গতিশীলও করা যায় না। আবার পারিবারিক সদস্যদের প্রতি আস্থাহীনতা আর অবিশ্বাসের কারণে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধ’রে আমরা আমাদের জমিগুলোকে খণ্ডিত ক’রে চ’লেছি। তাতে যেমন আমাদের জমিগুলোর আকার দিনদিন ছোট হ’চ্ছে, সেই সাথে তাদের চেহারা হ’য়ে প’ড়ছে এলোমেলো। ফলে আমাদের শহরের জমিগুলোর সম্ভবনা যাচ্ছে কমে। তাতে নির্মাণ খরচও যাচ্ছে বেড়ে। আবার অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের মালিকানার জমিগুলো আমাদের আবাসনের ন্যুনতম চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা হারাচ্ছে। তাতে জমিগুলোর প্রকৃত মূল্যমান তো কমে যাচ্ছেই, বাড়তি মূল্য সংযোজনের সম্ভাবনা আর থাকছে না বললেই চলে।

ঐতিহাসিকভাবেই বঙ্গেয় ব-দ্বীপটাতে জন-মানুষের ঘনত্ব বেশি ছিলো। ১৯৭১ এর পর থেকে সেই ঘনত্ব-বৃদ্ধির হার আরো বেড়েছে। বলা হয় ১৯৯১ এর পর তা আরো দ্রুততর হ’তে থাকে। তার প্রভাব প’ড়তে শুরু ক’রেছে আমাদের বেশির ভাগ শহরেই। শহরগুলো বাড়ছে তাই। এই বৃদ্ধিটা যতটা উর্ধ্বমুখি/আকাশমুখি হওয়া দরকার ছিলো ততটা যে হয়নি তা বলাই যায়। ঢাকা আর চট্টগ্রাম শহরের অনেকগুলো জায়গাতে আমরা মোটামুটি ১০ তলা আবাসিক বিল্ডিঙে আভ্যস্ত হ’য়ে উঠছি। কোথাও কোথাও বা ১৪/১৫ তলা। কিন্তু তার উপরে আর যাওয়া হচ্ছে না। যাওয়া যে হচ্ছে না বা যাওয়া যে যাচ্ছে না তার একটা বড় কারণ পরিকল্পনাহীনতা। ঘন-বসতিপূর্ণ শহরগুলোতে আবাসনের জন্য আরো উপরে ওঠার ব্যবস্থা যদি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান কোনো উপায়ে না করা যায় তবে শহর আনুভূমিক ভাবেই বাড়তে থাকবে। আর কমতে থাকবে শহরের প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিমাণ। মানুষ শেষ পর্যন্ত প্রাকৃতিক প্রাণীই। বেঁচে থাকার জন্য অনেকগুলো প্রাকৃতিক উপাদান তার লাগবেই। আর তাই আজকের দিনে বড্ড বেশি প্রয়োজন হ’য়ে পড়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশ আর অবকাঠামোর সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে শহর গ’ড়ে তোলা। সেই শহরকে অর্থনৈতিকভাবে টেকসই এবং চলনসই করতে হ’লে তাতে অধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আর তার আর্থিক ব্যবস্থাপনার দিকটা নিয়ে আমাদের নতুন ক’রে না ভাবলেই নয়।

আমাদের জমিগুলোর মূল্যমান কিভাবে নির্ধারিত হচ্ছে সেটা নিয়ে ভাবা দরকার। কিভাবে তার ব্যবহার উপযোগীতা বাড়ানো যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। আর ব্যবহার উপযোগীতা বাড়াতে না পারলে তার সম্পদ-মূল্য আসলে বাড়বে না। অনুপযোগী বা অব্যবহৃত সম্পদ আর্থিক-বিবেচনায় মূল্যহীন। একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে। যেমন, শহরের কোনো একটা জায়গাতে হয়তো একটা জমি আছে অথচ সেখানে যাওযা যায় না; সেই জমির আসলে কোনো ব্যবহারিক মূল্য নেই। আবার একই পরিমাণ জমিতে যদি ১০’ বা ২০’ বা ৩০’ বা ১০০’ প্রশস্ততার রাস্তা থাকে তাহলে তার মূল্য নির্ধারণ হয় আলাদাভাবে। অর্থাৎ জমির ব্যবহার উপযোগীতা আর যোগাযোগ সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা আমাদের জমির মূল্যমান বাড়িয়ে ফেলতে পারি। এই কাজটাই যদি শহরের বেশিরভাগ জমির ক্ষেত্রে করা যায় তাহ’লে শহরকেই আমরা বাড়তি গুরুত্বপূর্ণ ক’রে তুলতে পারি। আর যে দেশে যত বেশি গুরুত্বপূর্ণ শহর থাকে সেই দেশ তত সম্পদশালী হ’তে থাকে। আমরা আমাদের বাংলাদেশকে শুধুমাত্র কিছু সুচিন্তিত পরিকল্পনার বাস্তবায়নের মাধ্যমে আরো অনেকবেশি সমৃদ্ধশালী ক’রে তুলতে পারি। আর এই পরিকল্পনাগুলো শুরু করা যেতে পারে আমাদের আবাসন প্রকল্পগুলো থেকেই।

আমাদের পুরোনো আবাসিক প্রকল্পগুলো থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া দরকার। সেখানে কোন কোন ব্যাপারগুলো আমাদের জন্য সহায়ক হয়েছে, কোনগুলো হয়নি তা চিহ্নিত করা দরকার। শুরু করা যেতে পারে ছোট ছোট কোনো এলাকা ধ’রে। ছোট কোনো শহরকে নিয়েও। শুরু করছি আপাতত উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টর দিয়ে। নিচের ছবিটি গুগল-আর্থ থেকে ২৩-১০-২০১৮ তারিখে নেওয়া।

উত্তরা সেক্টর ১৩
ঢাকার উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর- গুগল আর্থ থেকে নেওয়া

পুরো সেক্টরটির চারপাশ দিয়ে ১০০’ এর অধিক প্রশস্ততার রাস্তা আছে। ভেতরের রাস্তাগুলো ২৫ থেকে ৩০ ফুট ক’রে প্রশস্ত। বেশিরভাগ প্লটের আকার ৩ কাঠার। সেই প্লটগুলোতেই এখনকার আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখছি। তার আগে কোনো একটা চাঙ্ক একটু ব্লো-আপ ক’রে দেখে নিই-

উত্তরা সেক্টর ১৩-২
উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের একটি ব্লক বা চাঙ্ক

মাঝ খানের হাউজিং চাঙ্কটিতে মোট ৪২টি প্লট আছে। ৫ টি প্লটে এখনো নির্মাণকাজ শেষ করা হয়নি। তারপরও এটা থেকে মোটামুটি বোঝা যায় বেশিরভাগ বিল্ডিংই ৬ কিমবা ৭ তলা বিশিষ্ট। আর বিল্ডিংগুলো অনেকটাই গায়ে গা লাগিয়ে দাড়িয়ে আছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিটি বিল্ডিঙের জন্য ন্যুনতম যতটুকু সেট-ব্যাক জায়গা নির্ধারণ ক’রে দিয়েছিলো তা এখানে মানা হয়নি বললেই চলে। এটা থেকে প্রকল্পের পরিকল্পনার দীনতা বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। আর যেটা বোঝা যায় তা হ’লো, ইমারত-বিধি না মানার ব্যাপারে আমাদের আপাত পরিকল্পিত-এলাকার প্লটের মালিকদের মধ্যে এক ধরণের ঐক্যমত্য আছে। অথবা এই এলাকার ইমারত-চাহিদার সাথে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বেধে দেওয়া বিধির পরিস্কার বিরোধ রয়েছে। আর অবশ্য অবশ্যই উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা প্রকটভাবে প্রকাশ হ’য়ে পড়ছে।

এবার একটু পরিকল্পনাগত দিকে নজর দিই। এই ধরণের ৩ কাঠা জমির মাপ ৩৬’ গুণন ৬০’ হ’য়ে থাকে। ৩০’ প্রশস্ত একটি রাস্তা দুই পাশের মোট ৪২টি প্লটকে সার্ভিস দিচ্ছে। আবাসিক-জমি এবং সংলগ্ন-রাস্তার জন্য ব্যবহৃত জমির পরিমাণের অনুপাত ৪:১। আপাতত সেই রাস্তার সাথে সংযুক্ত বড় রাস্তাকে বিবেচনার বাইরে রাখছি। এই হিসাবে একটা চাঙ্কের মোট এরিয়ার শতকরা ২০ ভাগ রাস্তা। এই ধরণের একটি চাঙ্কের আবাসিক  বিল্ডিংগুলোর ভেতরে কার্যত কোনো সামাজিক যোগাযোগ নেই। এটি পরিকল্পনার একটি ভয়াবহ ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা। দ্বিতীয়ত এই ধরণের প্লট-কেন্দ্রিক পরিকল্পার ফল স্বরূপ বিল্ডিঙের উচ্চতা সীমাবদ্ধ হ’য়ে পড়েছে। এই ধরণের প্লটে ৭ তলার উপরে বিল্ডিং বানানো প্রকৌশল আর আর্থিক দুই বিচারেই সুবিধাজনক নয়। চাহিদা আর মূল্যের টানাটানি, কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি না থাকা, ভূমিমালিকদের সম্পদ-পরিকল্পনার অদক্ষতা ইত্যাদি নানা কারণে এটি যথেষ্ট বাসযোগ্যও থাকছে না।

এরকম ২০টি চাঙ্ক বা ব্লকের সাথে ২টি বিশেষ চাঙ্ক মিলে গঠিত হ’য়েছে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরটি। সেক্টরটির মাঝখানে একটি পার্ক এবং একটি খেলার মাঠ আছে, যা কিনা এই সেক্টরটিকে বিশেষ সুবিধাভোগী ক’রেছে। যেমন পাশের ১৪ নম্বর সেক্টরেই এমন ধরণের কোনো সুবিধা নেই। আর সেখানকার চাঙ্কগুলোও এমন ধরণের লম্বাটে প্যাটার্নের (লিনিয়ার টাইপ)। যে কারণে একটা চাঙ্ক থেকে আর একটা চাঙ্কে হেঁটে যেতে হ’লে বেশ খানিকটা বাড়তি দূরত্ব পেরুতে হয়। এটা থেকে বোঝা যায় প্রকল্পটি পরিকল্পনার সময় প্রকল্পটির ভেতরে পায়ে হাঁটার ব্যাপারটা বিবেচনা করা হয়নি। আরো একটা সূক্ষ্ন বিষয় আছে। সেটা হ’লো, ২০০৮ এর বিধিমালা অনুযায়ী এখানে ৭ তলা বা তারো বেশি উঁচু বিল্ডিং বানানোর অনুমতি দেয়া যায়। অথচ এখানকার ৩ কাঠার প্লটে নিয়ম মেনে ৫টির বেশি পার্কিঙের ব্যবস্থা করা যায় না। আর এই ধরণের একটা ব্যবস্থা ভূমিমালিকদেরকে বিধির বাইরে গিয়ে ইমারত বর্ধিত ক’রতে প্ররোচিত করছে।

নিচের ছবিটি চট্টগ্রামের সুগন্ধা আবাসিক এলাকার। এখানেও মোটামুটিভাবে উত্তরার প্যাটার্নটিই অনুসরণ করা হয়েছে। উত্তরার ক্ষেত্রে সবগুলো প্লটের জন্য একই ধরণের অরিয়েন্টেশন বা অভিমুখ (মূলত উত্তর-দক্ষিণ মুখী) বজায় রাখার চেষ্টা আছে। চট্টগ্রামের সুগন্ধা আবাসিক এলাকার জন্য সেই অর্থে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিমুখ নেই প্লটগুলোর জন্য। উপর থেকে দেখা গুগল-আর্থের এই ছবি থেকে মনে হ’তেই পারে যে সর্বোচ্চ ব্যবসায়িক সুবিধা পাওয়ার জন্য এমনটা করা হয়েছে। চট্টগ্রামে বাতাসের গতিমুখ ঠিক দেশের বেশির ভাগ এলাকার মতো দক্ষিণা-প্রকৃতির নয়। ফলে এখানকার বিল্ডিংগুলোর অভিমুখ নিয়ে বিশেষভাবে চিন্তা করার অবকাশ আছে। সুগন্ধা আবাসিক এলাকার এই পরিলেখ থেকে আর যেটা বুঝতে খুব কষ্ট করতে হয়না তা হলো, এই নগরীর অধিবাসীদের কিমবা ডিভেলপারদের আর অবশ্যই উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নগরীর ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক খালগুলোর প্রতি কোনো ধরণের আগ্রহ নেই। প্রাকৃতিক খালগুলোর প্রয়োজনীয়তা বুঝতে তারা সবাই যেন অক্ষম।

Shughandha Residential Area. Chattogram
চট্টগ্রামের সুগন্ধা আবাসিক এলাকা- গুগল আর্থ থেকে

মোটামুটিভাবে দেশে এই ধরণের একটা প্রটোটাইপ দাড়িয়ে গিয়েছে হাউজিঙের পরিকল্পনাতে। বেসরকারী উদ্যোগেও যেসব হাউজিং হচ্ছে গত দুই/তিন দশক ধ’রে তা খানিকটা এই ধরণেরই। এই ধরণটা আমাদের আবাসন ব্যবস্থাকে সীমাবদ্ধ ক’রে ফেলেছে নানা ভাবে। বিল্ডিঙের উচ্চতা বাড়ানো যাচ্ছে না, ফলে সম্পদের মূল্যমান বাড়ানো যাচ্ছে না। প্রাকৃতিক পরিবেশ নাজুক হ’য়ে প’ড়ছে। আবাসন প্রকল্পে দীর্ঘদিন বাস ক’রেও এখানকার মানুষদের ভেতর কমিউনিটি গ’ড়ে উঠছে না। অথচ আবাসন পরিকল্পনার প্রধান একটা চাহিদাই হ’লো তাতে ভালো একটি কমিউনিটি গ’ড়ে তোলা।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s