আমার আসন্ন-নির্বাচন ভাবনা-২০১৮

যেহেতু সামনে নির্বাচন আসছে, সেটা নিয়ে আমাদের কিছু ভাবনা থাকা দরকার। কিন্তু ভাবতে চাইলেই কি ভাবা যায়? আমি তো পারছি না। মোটামুটি আগামী ৭০/৮০ দিনের মধ্যে হয়তো নির্বাচন হবে। কিন্তু আমরা এখনো জানি না এই নির্বাচনে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণের প্রকৃতি কেমন হবে। এমনিতেই আমাদের নির্বাচন-ব্যবস্থাটাতে স্পষ্টতার অভাব আছে। আমরা কখনই জানি না আমাদের প্রধান-মন্ত্রী পদের জন্য কে কে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। অন্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর জন্য যোগ্য ব্যক্তিরা দলীয় মনোনয়নের আওতায় আছেন কিনা তাও নির্বাচনের আগে জানা হয়না আমাদের। অনেকক্ষেত্রে একেবারে শেষ মুহূর্তে জানা যায় স্থানীয় সংসদীয়-আসনে কে বা কারা মনোনয়ন পেয়েছেন।

এই ধরণের একটা প্রাক্টিস দাড়িয়ে গিয়েছে দেশে। আমার কাছে এমন নির্বাচনকে এক ধরণের জুয়া খেলা ব’লে মনে হয়। আমি ভোট দিতে যাওয়ার আগে কী কী বিষয় বিবেচনা করবো তা কখনোই বুঝে উঠতে পারি না। সংসদ-নির্বাচনে প্রতিটা ভোটারকে মোটা দাগে দুইটা বিষয় ভাবতেই হয়, আর তা হলো এলাকার স্বার্থ আর দেশের স্বার্থ। একজন মানুষ যিনি কিনা এলাকার স্বার্থ বেশ ভাল বুঝতে পারেন, তিনি হয়তো দেশের সামগ্রিক স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে নাও অনুধাবন করতে পারেন। মনে রাখা দরকার মানুষ হিসেবে আমাদের সবারই কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। অতীতের নির্বাচনগুলোত দাড়ানো এবং জিতে আসা মানুষগুলোর ভেতরেও যেমন নানাবিধ সীমাবদ্ধতা ছিলো, আগামীর নির্বাচনগুলোতে দাড়ানো এবং জিতে আসা মানুষগুলোর ভেতরেও তেমনটা থাকবেই। ভোটার হিসেবে আমাদের কাজ হওয়ার কথা- সময়ের প্রয়োজন-বিবেচনায় এই মানুষগুলোকে নির্বাচন করার সময় আমাদের জানা-শোনা আর বিবেচনাকে ব্যবহার করা, অন্তত আমি এমনটাই বুঝি।

কিন্তু আমার মনে হয় না আমরা ভোটাররা বিবেচনা করার মতো সময় এবং সুযোগ পাচ্ছি। এই দেখি, কোনো রাজনৈতিক দল ঢালাওভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। আমি বুঝি না তারা কেমন তরো রাজনৈতিক দল। আবার এই দেখি, সংসদের সব দলের লোকই সরকারে। তাহ’লে আমার বা আমাদের নির্বাচন করার প্রয়োজনই বা থাকলো কোথায়? হ্যা, আমার বিবেচনার সাথে অনেকের বিবেচনা নাও মিলতে পারে। কিন্তু অধিকাংশ লোকের বিবেচনাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়াটাই তো গণতন্ত্র, যদি না আমার জানাতে ভুল থাকে। আমি পরিষ্কার ক’রে ব’লতে চাই, সব দল মিলে সরকার গঠিত হোক এটা আমি চাই না। আমি/আমরা নির্বাচনের সময় অনেক বিকল্প থেকে একজনকে বা একটা দলকে বেছে নিই বা একজনের উপর আমাদেরকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আস্থা রাখি। অনেকগুলো দল মিলে যখন জোট তৈরী করে সেটা আমার বিবেচনায় এক ধরণের রাজনৈতিক প্রতারণা। আমি যে এই ধরণের প্রতারণার শিকার হ’তে চাই না তা দ্বিধাহীনভাবে ব’লতে পারি।

এখন যারা সরকারে আছেন তারা যে পরবর্তী নির্বাচনের প্রচারণার জন্য তাদের উন্নয়ন কার্যক্রমকে হাইলাইট করবেন – সেটা বেশ বোধগম্য। তবে নির্বাচনের সময় আমাদের মতো ভোটারদের মনে যে শুধু এই ভাবনাগুলোই কাজ করে তা কিন্তু নয়। কী কী কাজ হয়েছে তার থেকে আরো কী কী কাজ করা যেতে পারে সেই বিবেচনাটা অনেক বেশি মুখ্য হ’য়ে ওঠে নির্বাচনের আগে আগে। তখন সরকারে থাকা পুরোনো লোকগুলোকে মূল্যায়নের প্রশ্ন চ’লে আসে। আমাদের কোন কোন সংসদ-সদস্য বা মন্ত্রী তাদের দায়িত্ব মোটামুটি সন্তোষজনকভাবে পালন করেছেন আর কে কে করেননি সেটার একটা তালিকা আমাদের মনে ঠিক তৈরী হ’য়ে যায়। অনেকে হয়তো গত ৫ বছরের চাহিদার বিবেচনায় মোটামুটি উতরে গেছেন। কিন্তু আমাদেরকে ভাবতে হবে আগামী ৫ বছরের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য কে কে যোগ্য হ’য়ে উঠতে পারেন। নির্বাচন ব্যাপারটাই ভবিষ্যৎ-মুখী।

আমার বারবার ২০০১ সালের নির্বচনের কথা মনে পড়ে। সে নির্বাচনের আগের সরকারের অনেক সাফল্য ছিলো। মোটা দাগে দেশের বেশির ভাগ মানুষ সেটা বুঝেছিলোও ব’লে আমি মনে করি। তবুও সেই সরকার পুনর্নিবাচিত হয়নি কেন সেটা নিয়ে আমি বেশ ভেবেছি। আমি শুধু দুইটা কারণ খুঁজে পাই। প্রথমটা হলো, নির্বাচন নিয়ে এই যে জোট বাধার ব্যাপারটা। আমরা সাধারণ ভোটারা যে প্রতারিত হ’য়েছি সেবছর তা মোট ভোটের হিসাব দেখলেই টের পাওয়া যায়। আর দ্বিতীয়টি হলো- জয়নাল হাজারী, ডা. ইকবাল এবং শামীম ওসমান। কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে তার ব্যর্থ এবং অযোগ্য লোকগুলোকে চিহ্নিত করাটা খুবই প্রয়োজনীয়, যদি তারা আগামী দিনের সরকার গঠন করতে চান। জনৈক শাহজাহান খান নিশ্চিত ভাবেই বর্তমান সরকারের এমন একজন ব্যক্তি যাকে নিয়ে সন্দেহ করা যায়। এই ধরণের ব্যক্তিরা যদি আবারো মনোনয়ন পেয়ে যায় তবে আমাদের মতো সাধারণ ভোটারদের জন্য তা এক ধরণের উপহাস হ’য়ে দাড়ায়। জানি না আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের এমন ভাবনাগুলো ঠিক বুঝতে পারেন কিনা।

সবগুলো রাজনৈতিক দলের কাছেই চাই, তারা যেন তাদের অতীতকে মূল্যায়ন করেন। আর দেশকে নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ-পরিকল্পনাগুলো যেন আমাদের কাছে পরিষ্কার ক’রে প্রকাশ করেন। নির্বাচনের আগে আমাদেরও অনেক কিছু ভাবার আছে। সে ভাবনার জন্য যে সময়টুকু দরকার তা যেন আমরা পাই সেটা নিশ্চিত করাটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের ভেতরে পড়ে। আগামী নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ এবং তা প্রকাশ করা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাজ-কারবার বেশ হতাশার। আমরা এখনো জানি না আগামী নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখ কবে, অথচ এই সংসদের শেষ অধিবেশনও হ’য়ে গিয়েছে। কবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সেটা যদি যথেষ্ট সময়ের আগে আমরা জানতে না পারি তবে আমাদের পক্ষে সঠিক লোক নির্বাচন করাটা খুব কঠিন হ’য়ে পড়ে।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s