দেয়াল

এক ছাদের নিচে বাস করার যে ধারণা তার ভেতরে একধরণের নিরাপত্তার বোধ আছে। হয়তো ভালোবাসারও। তবে সেই ছাদকে ধ’রে রাখে যে দেয়াল তাকে নিয়ে আমাদের অনুভূতি তেমনটা নয় সাধারণ অর্থে। যদিও গ্রাম এলাকার কেউ কেউ বলেন- দেয়াল তুললেই ঘর। হয়তো অর্থনৈতিক আর প্রযুক্তিগত কারণেই। কারণ বেশ আদিকাল থেকেই বাংলাদেশের গ্রামএলাকাতে দেয়াল তোলাটাই বেশি খরচের, সেই সাথে পরিশ্রমসাপেক্ষও। সেই তুলনায় গ্রামের ঘরের চাল তৈরী তুলনামূলক সহজ ছিলো। খড়, বিচালি অথবা গোলপাতার ছাউনি অর্থাৎ ছাদ বানিয়ে ফেলাটা দেয়াল তৈরীর চেয়ে সহজই বলা চলে।

হয়তো দেয়াল না তুলেও, চারপাশে বাঁশ বা গাছের গুড়ি দিয়ে স্তম্ভ বানিয়ে তার উপর নির্ভর ক’রে ছাদ বানিয়ে নেওয়া যায় ব’লেই দেয়ালের উপর ঐতিহ্যগতভাবে আমাদের পক্ষপাত একটু কম। তেমন ছাদ আমাদেরকে হয়তো বৃষ্টি আর রোদ থেকে বাঁচাতে পারে, তবে ঝড়ো বৃষ্টি আর শীতের বাতাস থেকে সুরক্ষা দেয়না তেমন। ঝড়ো বৃষ্টি, ঝড় আর শীতের কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসের অত্যাচারকে কমিয়ে আনতে চাই দেয়াল, সুগঠিত দেয়াল। আবার বন্য জন্তু-জানোয়ার কিমবা চোর-ডাকাতের হাত থেকে নিস্তার পেতেও দেয়ালের ভূমিকাই মূখ্য, যদিও সেটাই সব নয়।

আর সব যে নয় তা হয়তো বোঝা যাবে চারদেয়াল শব্দ-বন্ধটা থেকে। চারদেয়াল মানেই যেন কারাগার। এটা শুনলেই যেন মনের গহিনে জেগে ওঠে নির্বাসনের ভীতি, সে নির্বাসনের স্মৃতি নেই এমন মানুষের মনেও। অথচ নির্বাসন ব্যাপারটা এমন যে তার সাথে দেয়াল তোলার বাধ্যবাধকতা নেই তেমন একটা। একসময় দ্বীপান্তরেই নির্বাসনে পাঠানো হ’তো বেশি। গ্রাম-ছাড়া করাও এক ধরণের নির্বাসন দেওয়া। যদিও বাংলাদেশের গ্রামগুলোতে গ্রামান্তর খুব স্বাভাবিক ঘটনা ছিলো একসময়, সে মূলত নদী-ভাঙনের জন্য। আর তাই গ্রামান্তর আর গ্রাম-ছাড়া করা একই অর্থবোধক নয়। গ্রামান্তরে সাধারণত কোনো গ্রামের সব মানুষকে কিমবা অধিকাংশ মানুষকে স্থানান্তরিত হ’তে হ’তো, আর গ্রাম-ছাড়া করাটা ছিলো কোনো একজন নির্দিষ্ট মানুষ বা কোনো একটা পরিবারকে। ‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ এর শ্যামাঙ্গকে গ্রাম-ছাড়া হ’তে হয়েছিলো। দক্ষিণানাথ রায়চৌধুরীর চার ছেলের অন্তত দুইজনকেও হ’তে হ’য়েছিলো গ্রাম ছাড়া। পরে তারা নানা জায়গা ঘুরে নীলমনি ঠাকুরে এসে স্থির হয়েছিলো খানিকটা। পরবর্তীতে ইংরেজের কাছ থেকে পলাশীর যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ পাওয়া টাকা দিয়ে তুলেছিলো ঘর, স্থায়ী দেয়ালের ইমারত।

এই যে গ্রাম-ছাড়া হওয়া তার প্রকৃত অর্থ হ’তে পারে ঘর-ছাড়া হওয়া। ঘর ছাড়া হওয়াটা ভয়ঙ্কর কোনো একজন মানুষের জন্য। বিশেষ ক’রে এই একুশ শতকে, যে সময়ের মানুষেরা রেঞ্জো পিয়ানোর কথা মতো ‘যতটা প্রাকৃতিক প্রাণী তার চেয়ে বেশি স্থাপতিক প্রাণী’ (আর্কিটেকচারাল এ্যানিম্যাল)। কথাটার পেছনের ভাবনা আর রূপক দুইই বেশ চিত্তাকর্ষক। আজকের দিনের মানুষের পক্ষে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক পরিবেশে টিকে থাকাটা বেশ কঠিন। সত্যি ব’লতে সেটা সেই আদিকালেও কঠিনই ছিলো। আর তাই টিকতে পারতো খুব কম সংখ্যক মানুষই। আবার প্রাকৃতিক মানুষের জীবনের দৈর্ঘ্যও ছিলো ভীতিকর রকম কম। প্রাচীনকালের মানুষের গড় আয়ুস্কাল খুব বেশি ছিলো না। এমনকি ১৯৪৭ সালে যখন বিলেতিরা বাংলাদেশের সবটুকু কেড়ে-কুড়ে ১৯০ বছর ধ’রে নিঙড়ে নিয়ে তাকে ভেঙে টুকরো-টুকরো ক’রে ছেড়ে চ’লে গেলো তখনও বাঙালিদের গড় আয়স্কাল ২৮ বছরের কম ছিলো।

স্থায়ী দেয়াল তুলতে পারার সামর্থ্য-বৃদ্ধির সাথে সাথে বাঙালিদের গড় আয়স্কালও বেড়েছে। তবুও দেয়াল গড়া নিয়ে আমাদের ভাবনাগুলো এখনো যেন এলোমেলো। যে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ আর প্রচেষ্টায় আমাদের জীবনের নিরাপত্তা বেড়েছে সেগুলো গ’ড়ে তুলতে আমাদেরকে অনেক দেয়াল গাথতে হয়েছে। আবার সেসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরী করতে হয়েছে সীমানা প্রাচীর।

এই প্রাচীরও এক ধরণের দেয়াল। যদিও প্রাচীর আমাদেরকে সুরক্ষা দেয়, তা আবার নিশ্চিতভাবেই আমাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে, পাশের বাড়ি থেকে কিমবা পাশের দেশ থেকে। যেমন চীনের-প্রাচীর কিমবা বার্লিন-প্রাচীর। ইদানিং কালে এর নতুন নাম এসেছে, সীমান্ত-প্রাচীর। এই নাম অনেক জেনেরিক বা সাধারণীকৃত। ভারত সারা বাংলাদেশের প্রায় সবটা সীমানা ঘিরে এক ধরণের প্রাচীর তুলেছে, যার নাম হ’তে পারতো ভারত-প্রাচীর। কিন্তু তা না হ’য়ে হ’য়েছে সীমান্ত-প্রাচীর। এই নামের ভেতরে এক ধরণের সূক্ষ্ণ ষড়যন্ত্র আছে; পুরো মানব-সভ্যতার সাথে করা সে ষড়যন্ত্র। আর সেই ষড়যন্ত্র বেশ খানিকটা সফল ব’লেই বার্লিন-প্রাচীরের প্রতি পৃথিবীর মানুষের যে মনোভাব তেমন মনোভাব বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের সীমান্ত-প্রাচীরের প্রতি পৃথিবীর মানুষের নেই; অনেকক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষের মাঝেও নেই, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মাঝেও নেই; অথচ এই প্রাচীর মূলত ভাগ ক’রেছে বাংলা-ভাষীদের। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মেক্সিকোর সীমান্তে এমন প্রাচীর তোলার কথা বলছেন। জানিনা শেষ পর্যন্ত সে প্রাচীর উঠলে তার নাম কী দেবে মানুষ।

২০১৮ – নাগরিক ভাবনা

[এটা কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতী লেখা নয়। অনেকটা নিজের সময়ের উপলব্ধি, বা সময়ের আকাঙ্ক্ষাকে রাষ্ট্রীয় সীমার মধ্যে বোঝার চেষ্টা। এর ভেতরে অবশ্যই সবকিছু নেই। সে ব্যক্তি মানুষের অবস্থান আর পরিস্থিতিহেতু জানা আর বোঝার সীমাবদ্ধতার জন্যই মূলত। হয়তো অনেক পরবর্তী সময়ের কেউ এই লেখাটা থেকে ২০১৮ সালের বাংলাদেশ আর পৃথিবীর কাছে একজন খুব সাধারণ মানুষের কিছু আকাঙ্ক্ষার নমুনা পাবে।]

রাজনীতি ব্যাপারটা সম্যক বোঝা সহজ নয়। দিনে দিনে এর জটিলতা হয়তো সত্যিই বাড়ছে। তবে উন্নয়ন হয়তো সহজে বোঝা যায়। আর সেজন্যই রাজনীতিকেরাও হয়তো আজ আর রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে চান না, উন্নয়নের গল্পই শোনাতে চান শুধু। ওনাদের উন্নয়নের ধারণা আবার ঠিক সহজ-সরল নয়। নানাবিধ হিসাব কিংবা ইনডেক্সে ভরা সে সব ধারণা। আমার মাথায় তার সব ধরে না।

আমি সহজে বোঝার চেষ্টা করি। মানুষ একসময় পাথর দিয়ে শিকার করতো, তারপর খুঁজে আনলো ব্রোঞ্জ, কিছুকাল পরের লোহা, তাই দিয়ে শিকার শুরু হ’লে মানুষের শিকারের দক্ষতা গেলো বেড়ে। আমার মতে এটা উন্নয়ন। এখন সেই লোহার দখল নিয়ে মানুষের মাঝে যখন হানাহানি শুরু হ’লো সেটা এক ধরণের মানসিক পতন। এভাবে বিচার করাটা হয়তো আজকের অর্থনীতিকেরা মানবেন না। ওনারা বড্ড সংখ্যায় বিশ্বাসী। সেটা হয়তো ভুল নয়। কিন্তু আমার কেন জানি মনে হয় সে সব সংখ্যা বা সূচকের ভেতর সবটা নেই, বা সচেতন ভাবেই অনেক কিছু লুকানো আছে। এই যেমন রাস্তা রাড়ছে সে হিসাব থাকে। কিন্তু ১০/১৫ বছর আগে একই পরিমাণ দূরত্ব পেরুতে যতটা সময় লাগতো আজ তার চেয়ে বেশি লাগছে না কম লাগছে তা বলা হয় না। আমি ২০০৩ থেকে ২০০৫ এর ভেতর মোটামুটি সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টায় বাসে ক’রে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌছে যেতাম। ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সালের ভেতর সড়ক পথ আর ফেরীতে ক’রে পদ্মা পার হ’য়ে ঢাকা থেকে ঝিনাইদহে মোটামুটি সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় পৌছে যেতাম। এই এত বছরে রাস্তার প্রশস্ততা বেড়েছে, বেশি গতি আর কমফোর্টের বাস এসেছে, ফেরীর আকার এবং গতি বেড়েছে। তবু আমার যাতায়াতের সময় কমে আসেনি, বরং বেড়েছে। নীতিনির্ধারকেরা হয়তো বলবেন প্রয়োজনের সাথে আনুপাতিক হারে অবকাঠামো উন্নয়ন হয়নি। আমি এত জটিল ক’রে বলতে বা ভাবতে চাই না। আমার কাছে সহজ ক’রে মনে হয়, এখানে উন্নতি হয়নি। পাথরের ব্যবহার থেকে লোহার ব্যবহার উন্নয়ন, যাতায়াতে নিরাপদ কোনো মাধ্যমে সময় কমিয়ে আনাটা উন্নয়ন।

এখন আমি খানিকটা ঘরকুনো স্বভাবের মানুষ ব’লে হয়তো দুটো দূরত্ব নিয়েই প’ড়ে আছি। হয়তো ঢাকা থেকে লন্ডনের দূরত্ব-সময় কমেছে এর ভেতর। তবে ঢাকার ভেতরের দূরত্ব-সময় (কোনো দূরত্বে যেতে যে সময়টা লাগে) যে গত ২০ বছরে বেড়েছে তা হলফ ক’রে ব’লতে পারি। ১৯৯৭/৯৮ সালে মতিঝিল থেকে মিরপুর চিড়িয়াখানা যেতে গড়ে যতটা সময় লাগতো এই ২০১৮ তে এসে তার থেকে বেশ একটু বেশিই লাগে। কতটা বেশি সে হিসাব নগর-পরিকল্পকেরা দেবেন। তবে দিনের বেলা ঢাকাতে যে এখন ঘণ্টায় গড় হিসাবে ৪/৫ কিলোমিটারের বেশি যাওয়া যায় না – তা বলা হয় নানা পত্র-পত্রিকায়। ২০০০ সালের কাছাকাছি সময়ে এটা ১৪/১৫ এর মতো ছিলো ব’লে মনে করতে পারি। ঢাকা শহরে রাস্তা বেড়েছে, গাড়ি বেড়েছে, মানুষ বেড়েছে, বিল্ডিং বেড়েছে – এগুলো এক ধরণের উন্নয়ন অবশ্যই। তবে রাস্তাতে যে সময়ের অপচয় বেড়েছে সেটা কম অবনতি নয়।

একই রকমে নদী-বন্দরের আকার যে বেড়েছে তা যেমন ঠিক, আবার পণ্য খালাসের সময়ও বেড়েছে। তাই বেড়েছে খরচও। যোগে বিয়োগে উন্নতি না অবনতি এ ক্ষেত্রে আমি ঠিক নিশ্চিত নই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে। সরকারী আর বেসরকারী দুইয়েরই। ফলে স্নাতক বেড়েছে। আবার স্নাতক বেকারও বেড়েছে। স্নাতক করার পরও বেকার থাকার সংখ্যাটা বাংলাদেশে বেশ বেশি। এটা শিক্ষা ক্ষেত্রের এক ধরণের অবনতি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। স্নাতকেরা যদি স্বনির্ভর না হ’তে পারে তবে তাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় যে ঘাটতি আছে এটা বলতেই হবে, সে পারিপার্শ্বিক যত কারণই থাকুক না কেন। এই ঘাটতিটা থেকে যাওয়ার একটা বড় কারণ দীর্ঘ সময় ধ’রে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া। আমি নিজে ১৯৯৭ সালে এসএসসিতে ইংরেজী প্রথম-পত্র পরীক্ষা দুই বার দিয়েছি, সেও এই প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ওঠায়। গত বেশ কয়েক বছর ধ’রে এমন অভিযোগ প্রায় সবখানে শোনা গেলেও দ্বিতীয়বার পরীক্ষা নেয়ার নজির তেমন একটা নেই, চাকরীর ক্ষেত্রে কিছু পরীক্ষা বাতিল হওয়া ছাড়া। অথচ এমন গুরুতর অঘটনের জন্য দায়িত্বশীল কাউকে এতদিনেও বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি, সাজা তো নয়ই, অন্তত জানা মতে। প্রায় এক দশক ধ’রে একই ব্যক্তি শিক্ষা-মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। তাকে অপসারণের চিন্তাও করা হয়নি। হয় তার চেয়ে যোগ্য কাউকে এই পদের জন্য পাওয়া যাচ্ছে না, আর নয়তো এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক কারণ আছে- যেটাই হোক না কেন ভবিষ্যতের দুর্গতির জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে এখনই।

বেশ কিছুদিন ধ’রে শিক্ষার্থীদের ভেতর সরকারী চাকরী নিয়ে অসন্তোষের কথা শোনা যাচ্ছিলো। কর্তৃপক্ষ যে সেই অসন্তোষকে বিবেচনায় নেয়নি – এই ব্যাপারটা বেশ হতাশার। আবার অভিজ্ঞ একজন রাজনীতিক সংসদে দাড়িয়ে এই সব শিক্ষার্থীদেরকে ঢালাও ভাবে রাজাকারের-বাচ্চা ব’লে গালও দিয়েছেন। পরিষ্কার ভাবেই মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে তার ধারণাকে সন্দেহ করা যায়।

মানুষ বাড়লে মানুষে-মানুষে হানাহানি-ফাটাফাটি বাড়ে এটা হয়তো আমরা ধরেই নিয়েছি। আর তাই মামলা- মোকদ্দমাও বাড়ে। কিন্তু যদি সভ্যতা আগায় অর্থাৎ উন্নতি হয় তবে তো অপরাধ প্রবণতা কমার আশা করা যায়। কিন্তু সে আশার গুড়ে বলিই বেশি। অপরাধ-প্রবণতা আমাদের ভেতরে কমেনি। অপরাধ দমন বা প্রশমনের জন্য যে প্রতিষ্ঠানগুলো বানানো হয়েছে বাংলাদেশে তারাও অনেক ক্ষেত্রে জড়িয়ে গেছে অপরাধের সাথে। পুলিশ, সরকারী আমলা, বিচার-বিভাগ, মন্ত্রণালয়, রাজস্ব-বিভাগ এমনকি আইন-বিভাগও এর বাইরে যে নয় তা ভুক্তভোগীরা সবাই জানি। বিচার বাংলাদেশে সেই বিলেতি আমলেও পাওয়া যায়নি, আজও পাওয়া যায় না। আইনে অসমতা তখনো ছিলো আজো আছে। আর তাই আইনের প্রতি, বিচার ব্যবস্থার প্রতি নাগরিকদের ভীতি আর অসম্মান দুইই আছে। ভীতি এই জন্য যে এদিয়ে যখন তখনই প্রায় সবাইকেই হেনস্থা করা যায়, আর অসম্মান এই জন্য যে ন্যায় বিচার তো পরের কথা, বিচারের রায়ে পৌছতেই বিচার-ব্যবস্থার একরকম অসীম সময় লেগে যায়। আর কে না জানে- জাস্টিস ডিলেড, জাস্টিস ডিনাইড? বিলম্বিত বিচার প্রহসনের নামান্তর মাত্র!

ইদানিং এই ব্যাপারগুলো নিয়ে খোলাখুলি কথা বলাটা জীবনের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হ’য়ে উঠেছে। অবশ্যই যথাযত নির্বাচনের অনুপস্থিতি এর একটা বড় কারণ। মুশকিল হ’লো তার জন্য কাউকেই দায়ী করা যাচ্ছে না। আমার নিজের মতে এখানে ২০০১ এর জাতীয় নির্বাচনের ভূমিকা আছে। সাধারণ ভাবে বলা হ’য়ে থাকে জনগণ কোনো ভুল করে না। হয়তো করেওনি ২০০১ এ। কিন্তু তবু বেশি ভোট পাওয়া দলটা সে বছর সরকার গঠন করতে পারেনি। এরপর আর বাংলাদেশের রাজনীতি আগের ১০ বছরের মতো থাকেনি। বড্ড বেশি হিসেব ঢুকে গিয়েছে এর ভেতর। ফলে নীতি আলোচনা আর শুরু করা যায় না রাজনৈতিক ময়দানে। এমনতরো পরিস্থিতি থেকে মুক্তি যে কবে আসবে তা অনিশ্চিত। রাজনীতি সত্যিই সহজ বিষয় নয়!

নাগরিক হিসেবে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার একটা দায় কিন্তু আমাদের আছে, যেহেতু দেশের নীতিনির্ধারকেরা সবাই এই নাগরিকদের ভেতর থেকেই আসেন। আবার এই নীতিনির্ধারকদের উপর একধরণের প্রত্যাশার চাপ তৈরী করাটাও দরকার, যেটা নাগরিকদেরকেই করতে হবে। এখানে আমাদের মতো নাগরিকদের বেশ খানিকটা উদাসীনতা যে আছে তা মানতেই হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব অনেকটাই নাগরিকদের। অথচ সে ব্যাপারে নাগরিকদের সচেতনার অভাব আছে। সেটা আমাদের রাস্তাগুলো দেখলেই বেশ বোঝা যায়। আমরা সবাই যেখানে সেখানে ময়লা ফেলি। ঢাকার সিটি-কর্পোরেশনের উদ্যোগে শহরের নানা স্থানে যে ময়লার ঝুড়িগুলো বসানো হয়েছিলো সেগুলো আমরা কমই ব্যবহার করেছি। অনেকে সেগুলো চুরি ক’রে নিয়ে গিয়েছি, অনেকে তার অনেকগুলো ভেঙেচুরে ফেলেছি। পরে সবাই মিলে গালাগাল করেছি সিটি-কর্পোরেশনের লোকজনকে, এই জন্য যে তারা ঠিক মতো রাস্তা পরিস্কার করে না, ঠিক মতো মশা নিধন করে না। কিন্তু নালাগুলো দখল করেছি আমরা নাগরিকেরাই, তাতে ময়লা ফেলে তা দিয়ে পানি যাওয়ার ব্যবস্থা আটকে দিয়েছি আমরা নাগরিকেরাই। আমরা আহা-উহু করি সামান্য বৃষ্টির পরই যখন রাস্তায় পানি জমে যায় তখন।

আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ব্যাপারগুলো নিয়ে কথা হয় না। আমাদের নগরের সাথে আমাদের আচরণ কেমন হবে সেগুলো আমাদের পঠ্যসূচিতে থাকা দরকার। আমাদের পৃথিবীর প্রতি আমাদের ভালোবাসা যেন গড়ে ওঠে সেদিকে মনোযোগ দেওয়া দরকার। শুরু হ’তে পারে স্কুল থেকেই। আর তা করা না গেলে যে কী হ’তে পারে তা তো আমরা ঢাকাতে প্রতিদিনই দেখছি। অথচ এমনটা হ’তে থাকুক তা আমরা সচেতন ভাবে চাই না। কিন্তু সচেতনতাটা সামগ্রিক আকার পাচ্ছে না। এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা আছে বলতেই হবে। কারণ সাধারণ মানুষ ঐতিহাসিক ভাবেই ছন্নছাড়া। তাদেরকে একত্রিত করাটাই রাজনৈতিক কার্যক্রম। সেই কার্যক্রমের আদর্শিক একটা ভিত্তি লাগে হয়তো। আদর্শটাকে সমকালিন হওয়া চাই। তা না হ’লে তা হয়তো শক্তিশালী হয় না। রাজনৈতিক আদর্শের সমকালিনতা নিয়ে একাডেমিক ভাবনারও দরকার আছে। দেশে সেটার কমতি আছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার পেছনে যথেষ্ট সময় আর অর্থ যে বিনিয়োগ করছে না তা বাজেট থেকে জানা যায়।

নগরী ঢাকা-৭

মাঝে মাঝেই ঢাকা শহরের গতি থেমে যায়। রাস্তায় প্রচুর গাড়ীর থেমে যেতে হয়, থেমে থাকতে হয়। যখন গাড়ীগুলো চলে তখনও যে দরকারী গতিতে চ’লতে পারে সেটাও সবসময় নয়। এর নানা কারণ আমরা বলতে পারি। তবে এক-কথায় যদি ব’লতে হয় তা হ’লো, শহরের যাতায়াতের ব্যাপারটা নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা করা হয়নি।

অবশ্য শুধু যাতায়াতের কথা ব’ললে ঠিক বলা হয় না। এত বড় একটা শহর, অথচ তাকে নিয়ে কোনো সামগ্রিক ভৌত-পরিকল্পনা করা হ’য়েছে এটা বলা যাবে না। সামগ্রিক ভৌত-পরিকল্পনার কথা আদতে ভাবা হ’য়েছে নীতিনির্ধারণী মহলে- তাও বলা যাবে না। তবু যে চ’লছে শহরটা, খুড়িয়ে খুড়িয়ে হ’লেও তা নিশ্চিত। দুষ্টু লোকেরা কেউ কেউ মাঝে মাঝে বলার চেষ্টা করেন, এভাবেও আর চলবে না বেশি দিন। শহরেরও প্রতিরোধ করার একটা সীমা আছে। সেই সীমা ছাড়াতে আর বিশেষ বাকি নেই। আর আশাবাদীরা কেউ কেউ বলেন, সব শহরেরই কিছু কিছু সমস্যা থাকে, কোনো কোনো বিশেষ সময় এবং পরিস্থিতিতে তারা হয়তো প্রকট হ’য়ে ওঠে, তবে চেষ্টা ক’রলে সেই সমস্যাগুলোকে সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়। একটা প্রাণবন্ত শহরের জন্য এর নাগরিকদের মধ্যে এই সমস্যাদেরকে সহনীয় পর্যায়ের মধ্যে রাখার আকাঙ্ক্ষা থাকাটা তাই খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এখন ঢাকা শহরের মানুষদের মধ্যে এই আকাঙ্ক্ষাটা সামাজিকভাবে আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। অনেক ব্যক্তির ভেতরে আলাদা ক’রে থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। তবে তারা যদি সঙ্ঘবদ্ধ হ’য়ে সামাজিক আকার না নিতে পারে তবে তা কার্যকরী হ’য়ে ওঠে না এই ২১ শতকের বাস্তবতায়।

আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়- ঢাকার মানুষদের ভেতরে এই সামাজিক আকাঙ্ক্ষাটা কার্যকর নয়। আর নয় ব’লেই ঢাকার মানুষগুলোর পরস্পরের উপর আস্থা নেই। নেই ব’লেই তারা শহরের জন্য প্রয়োজনীয় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কখনো কখনো অথোরিটির লোকজন সামান্য কিছু খোঁজখরব ক’রে কোনো একটা বিধান জারি করে মাত্র। সেই সব বিধান মানা হচ্ছে কি হচ্ছে না, সে খোঁজ কেউ করে না। তবে কখনো কখনো বিধানগুলোর অপব্যবহার যে হয় তা টের পাওয়া যায়। আর একবার অপব্যবহার শুরু হ’লে তা আরো অপব্যবহারের কারণ হ’য়ে ওঠে। ভাল পুলিশী ব্যবস্থা করতে পারলে এ থেকে বেরিয়ে আসা যাবে কিনা বলা শক্ত। আবার বেরিয়ে আসাটা উপকারী হবে এমন দাবি করাও কঠিন। তবে ভাল পুলিশী ব্যবস্থা থাকুক বা না থাকুক, বর্তমান বিধির ব্যাপারে ঢাকার অধিবসীদের যে সম্মতি নেই সেটা মেনে নিতেই হবে। সম্মতি নেই বলেই তারা বিধি মানতে চান না অথবা বিধি-ব্যবস্থা তাদের স্বার্থের সাথে সাংর্ঘিক।

কখনো সুচিন্তিতভাবে ঢাকাকে গ’ড়ে তোলার চেষ্টা হয়নি ব’লেই ঢাকাতে অনেক কিছুই নেই। এমন অনেক কিছু যা একটা বড় শহরের জন্য খুবই দরকারী। যেমন সমাবেশের জন্য খোলা বড় কোনো জায়গা বা চাতাল কিমবা বড়সড় একটা খোলা মাঠ। ফলে মানুষের যাতায়াতের বিঘ্ন না ঘটিয়ে দরকারী সমাবেশ করা যায় না। মানুষ যদি কখনো কোনো ব্যাপারে প্রতিবাদ জানাতে চায়, তো রাস্তা বন্ধ না ক’রে আর উপায় থাকে না। আর সমাজ-ব্যবস্থা, রাষ্ট্র-ব্যবস্থা, বিশ্ব-পরিস্থিতি, উৎপাদন সম্পর্ক, প্রযুক্তি আর সভ্যতার অভিজ্ঞতা সবসময়ই পরিবর্তনশীল ব’লে- এদেরকে ধারণ করে যে নগর-কাঠামো তাও সদা পরিবর্তনশীল। কিন্তু পুরোনো-প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিরা তাদের অবস্থান সহজে ছেড়ে দিতে রাজি থাকে কমই। আর তাই মতভেদ একটি নাগরিক বাস্তবতা। নগরের প্রয়োজনেই নাগরিকদের মতভেদগুলো অন্য নাগরিকদের জানানোর ব্যবস্থা থাকা জরুরি। সে ব্যবস্থা থাকলে মতভেদগুলো অসহনীয়ভাবে পুঞ্জিভূত হ’য়ে ওঠার দরকার পড়ে না। হঠাৎ কখনো পুঞ্জিভূত হ’য়ে উঠলেও তা সবাই মিলে মোকাবেলা করাও যায় যদি মতভেদগুলো নিয়ে মুখোমুখি বসার বা অলোচনা করার মতো জায়গা থাকে, ব্যবস্থা থাকে, একটা অভ্যাস বা সংস্কৃতি থাকে। অজকের দিনে ইলেকট্রোনিক মিডিয়া হয়তো একটা ব্যবস্থা। তবে তা যে সর্বদা কার্যকরী সে দাবি করা বোকামি হবে, কারণ সবাই এটা ব্যবহার করার সুযোগ সবসময় পায় না।

নগরের বেড়ে ওঠার জন্য প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি আর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেসব প্রতিষ্ঠানের ধরণও নানাবিধ। সেসব প্রতিষ্ঠানের ভেতরেও প্রতিনিয়ত চ’লতে থাকে ভাঙাগড়া। আর তা না চ’ললেই দিনে দিনে তার কার্যকারীতা কমতে থাকে। কোনো নগরে যখন অকার্যকরী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যায় তখন সে নগরের বাস-যোগ্যতা কমতে থাকে। নাগরিকদেরই মূলত খেয়াল রাখতে হয় তাই প্রতিষ্ঠানগুলো দিকে। আর এই খেয়াল রাখার সবচেয়ে সহজ আর কার্যকরী উপায় হ’লো প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রমে নাগরিকদের সদা-অংশগ্রহন। সেটা থেকেই নাগরিকেরা জানতে পারবেন তাদেরই পরিশ্রম, মেধা আর অর্থে গ’ড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে কিনা। তাদেরকে নিয়ে নতুন ক’রে ভাবা দরকার কিনা। প্রতিষ্ঠানে নাগরিকদের এই অংশগ্রহন নিশ্চিত করার জন্যও দরকার জায়গার। সে প্রতিষ্ঠানের চৌহদ্দির ভেতরে তো বটেই, কখনো কখনো বাইরেও।

আবার নগর কখনই একটা একক ইউনিট হিসেবে গ’ড়ে ওঠে না। ঢাকাও ওঠেনি। এর মিরপুর, গুলশান, আজিমপুর, গ্যান্ডারিয়া, উত্তরা সবই আলাদা আলাদা একক ইউনিট। এসব ইউনিটগুলো আরো ছোট ছোট অনেকগুলো সাব-ইউনিটের সমাবেশ। অথচ এই ইউনিটগুলোর একক সামাজিক ইউনিট হ’য়ে ওঠার জন্য যে ধরণের অবকাঠামো দরকার তা গ’ড়ে তোলা হয়নি বললেই চলে। হয় যে নি, তা ঐ ভৌত-পরিকল্পনার অভাবের কারণেই। ছোট্ট একটা উদাহরণ দিই, সেটা ঢাকার আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামগুলো নিয়ে। একটা মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকাতে, আর একটা মিরপুর আবাসিক এলাকাতে। দুইটার কোনোটার সাথেই নগরের সাধারণ মানুষের খেলার বা অনুশীলনের জন্য আলাদা মাঠ নেই। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা যে একটা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অনুশীলনে যাবে – তারা একদিন ঐ চারপাশে গ্যালারী-ঘেরা মাঠে নিজেরা খেলতে নামবে আর সারা দেশ না হলেও অন্তত সারা শহরের মানুষ ওদেরকে দেখতে চাইবে- সে সুযোগ নেই। আর নেই ব’লেই তাদের মনে তৈরী হয়না ভাল খেলোয়ার হ’য়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা।

এই যে নগরের ভেতরে প্রতিবাদ জানানোর জায়গা না থাকা, আকাঙ্ক্ষা জাগানোর মতো মাঠ না থাকার ব্যাপারটা- এগুলো এই নগরের মানুষদেরকেই খুঁজে খুঁজে বের করতে হবে। এবং এই জায়গাগুলো গ’ড়েও তুলতে হবে। সে নাগরিকদের অংশগ্রহন আর সম্মতিতেই।

And there is no one to blame !

When it rains in Dhaka, even only for an hour, most of the roads are flooded. Year after year the inhabitants of the city are experiencing this. Right now Dhaka is said to be the 10th most populous national capital in the world with approximately 18 million people living in it.(1)  Yet it’s really hard to find people or institutions or organizations both government or independent responsible for its water management.

Let’s see some pictures of Dhaka’s road over the years mostly around the rainy season. All the pictures are collected from different websites and they are mentioned in the captions.

Baridhara_DOHS_during_2004_flood

This picture was taken in 2004. The area is Baridhara DOHS, a housing area for retired army officials and they are said to be powerful and influential and rich (apartment values may second the information). It is collected from wikipedia. (2)

dhaka-streets 2014This one was published in ruhulrabbi’s wordpless bolg in 2014. (3)

02_Azampur_Uttara_030714_0035

This picture was taken and published in March 2014. Location : Uttara. Published by bdnews24.com

21_Waterlogging_kazipara_11062015_0003

This is a picture of 2015. Location Kazipara, Mirpur. published by bdnew24.com

dhaka-bangladesch-1-september-2015-zwei-stunden-schwere-dusche-regenguss-erzeugt-wasser-logging-in-vielen-strassen-in-den-niederen-bereichen-aufgrund-der-schlechten-kanalisation-in-der-s

A picture was taken and published in 2015. Sadly The roads are very close to a big park with water-body. Yet Lack of proper drainage facility.

21_WaterloggingPaikpara_110616_0002

bdnews24.com published the above picture of Paikpara under Mirpur on 11th June of 2016.

3859AEB400000578-3789124-image-m-82_1473866038674

Image published by dailymail.co.uk in September 2016. An image after Eid-ul-Azha. Many roads of Dhaka got an image like this on that day.

33_Public+suffering_Rampura+Banasree_110917_0028

This photo was published by bdnews24.com in September 2017. Location: Rampura, Banasree.

11_Waterlogging_Fazle+rabbi+road_TAS_020817_0007

Another 2017 picture. Sadly the road is just beside Bangobhabon, the official residence of the honorable president of the country. Either even the president doesn’t care or nobody cares about the president.

23_water+logging_secretariat+Road_AMO_020817_0007

Another 2017 picture. From the road beside Secretariat, where most of the important decisions of the nation are taken. Clearly, mistakes repeated are not mistakes, they are just decisions.

sonargaon1-2018

This is a very recent image. Taken and published in 29th April of 2018. Location: Beside the Sonargaon Hotel. Commercially a very important area of the City. Thedailystar published the image.

rain_27-2018

One of the posh areas of the City. Dhanmondi-27. The photo was taken and published in 29th April 2018 by Thedailystar. Nobody knows where the money goes, where the taxes are spent.

Now I think we have seen enough of it. Yet not enough for the authorities of the City or the country. We may name some of the authorities…

a. Water Development Board (http://www.bwdb.gov.bd/)
b. Dhaka WASA (https://dwasa.org.bd/)
c. Dhaka North City Corporation
d. Dhaka South City Corporation
e. RAJUK (http://www.rajukdhaka.gov.bd/rajuk/webHome)

And none of them are to be blamed for waterlogging of the city. A city of such scale and importance. Yet we the 18 million people of it have no right or way to ask questions about the poor water management system of the city to anybody or any authority or any institution.

The above pictures show us that the whole city has been severely suffering for a long long time, maybe only God can say how long, due to lack of water-related infrastructures and the negligence of the authorities for water issues of the city. We see a lack of proper design of the drainage system. We experience very poor urban planning. The laws to control and guide the growth of the city are almost dysfunctional. Nobody cares about the City-corporation or the Rajuk’s laws. And so on…

If we would consider ourselves as the city, as Kazi Khaleed Ashraf stated, it would not be like this. We would have a place to file complains, where there would be people to consider them. We would have institutions that have the know-how to solve the problem. We would have a community that embody the desire to make the city hydro-logically a sustainable place. But that is not just happening and we can’t say anything to anybody but to suffer and get angry and frustrated.

  1. http://worldpopulationreview.com/world-cities/dhaka-population/
  2. https://en.wikipedia.org/wiki/Water_management_in_Dhaka
  3. https://ruhulrabbi.wordpress.com/2014/08/28/horrible-condition-of-roads-in-dhaka/

 

ছোট ছোট কিছু বিষয় – ৩

আমার একটা ২৪” চওড়া প্রিন্টার দরকার পড়েছিল। খোঁজ করলাম। এইচপি এর এমন একটা প্রিন্টার আছে। এ্যামাজন এবং আরো কিছু অনলাইন দোকানে যেটা ৬৮৮ ডলার থেকে ৭৩৯ ডলারের ভেতরে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশের ফ্লোরা সেটা বিক্রি করছে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকায়। যেটা কিনা এ্যামাজনের দামের দুই গুণেরও বেশি।

আরো কিছু পণ্যের ব্যাপারেও এমনটা দেখলাম। বাংলাদেশের বাজারে বেশিরভাগ পণ্যের দাম যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া বা কানাডা থেকে বেশি। এমন তরো বাজার সাধারণ মানুষদেরকে যে সুবিধা দিচ্ছে না এটা নিশ্চিত। হয়তো ব্যাংক, ব্যবসায়ী আর শুল্ক-বিভাগ লাভবান হচ্ছে।

একই পণ্য বাংলাদেশের মতো একটা নিম্ন আয়ের দেশের মানুষকে যদি যুক্তরাষ্ট্রের মতো উচ্চ আয়ের মানুষদের চেয়ে দুইগুণেরও বেশি দামে কিনতে হয় তবে উভয় দেশের ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রতিযোগীতাতে শুরুতেই বাংলাদেশীরা পিছিয়ে পড়ছে। এমন যদি হতো যে পণ্যটা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরী তবু খানিকটা প্রবোধ দেওয়া যেতো। কিন্তু তাও তো নয়।

যে পণ্যগুলো বাংলাদেশে তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা নেই আপাতত অথচ বর্তমান সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় তার বাজারদর যেন আন্তর্জাতিক বাজারদরের সমকক্ষ হয় সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। বলা হয়, কম্পিউটার পণ্যে বাংলাদেশে শুল্ক নেই। অথচ একই মানের কম্পিউটার পণ্য যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডা থেকে আনলে যে দাম কম পড়ে তা আমরা অনেকেই দেখেছি বাস্তব অভিজ্ঞতাতে। একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে তুলনামূলক কম পরিমাণ পণ্য কিনতে পারার ব্যবস্থাটা পাল্টানো দরকার।

ছোট ছোট কিছু বিষয় – ২

কেনাকাটা করতে গেলে বাংলাদেশে দামাদামি করাটা খুব কমন। সে আলু পটল থেকে জাহাজ কেনা পর্যন্ত। অবশ্য বাইরে থেকে বড় বড় জিনিস পত্র যেমন কল-কারখানার ক্যাপিটাল যন্ত্রপাতি কিনতে গেলেও নিগোসিয়েশন বা দামাদামি করতে হয় আমাদেরকে। হয়তো সব দেশেই এটা প্রচলিত। ব্যবসায়ীকে বিশ্বাস করাটা বোকামি, সে সব দেশেই। ব্যবসায়ীরা সেটা আরো ভালো ক’রে জানেন।

কিন্তু দৈনন্দিন সব কিছুই যদি দামাদামি ক’রে কিনতে হয় তাতে কেনাকাটার পেছনে সময় চলে যায় অনেকটা। জাতীয় হিসাবে এই সময়টা নেহাত কম নয়। খুচরা বেচাকেনার ক্ষেত্রে পণ্যের মান নির্দিষ্ট ক’রে দেওয়া গেলে তার দামের ব্যাপারটাও হয়তো একটা সীমার ভেতর আনা যেতে পারে। জানিনা তাতে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ নষ্ট হবে কিনা।

খুচরা পর্যায়ে পণ্যের মান এবং দাম উৎপাদনের সময়ই নির্দিষ্ট ক’রে দেওয়া গেলে সাধারণ মানুষের সময় অনেকটা বাঁচানো যেতো মনে হয়। অবশ্য যারা কেনাকাটা করা এবং দামাদামি করাটাকে বিনোদন হিসেবে বিবেচনা করেন তাদের এটা পছন্দ না-ও হ’তে পারে।

ছোট ছোট কিছু বিষয় – ১

আমাদের রাস্তাগুলোর রিপেয়ার দরকার হ’লে আমরা তার উপর নতুন ক’রে পিচ/বিটুমিনের একটা লেয়ার দিয়ে দিই। তাতে ব্যাপারটার একটা দ্রুত সমাধান হয় বটে। কিন্তু এমন সমাধান যদি ঘনঘনই করতে হয় তাতে রাস্তার উচ্চতা কয়েক বছরেই বেশ খানিকটা বেড়ে যায়। বাংলাদেশের শহরের রাস্তাগুলোর প্রায় সবগুলোতে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ফলে ১৫/২০ বছর আগে বানানো বেশিরভাগ বিল্ডিঙের নিচ তলা এখন এ্যাভারেজ রাস্তার লেভেল থেকে নিচে চলে গিয়েছে। তাতে বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমলে এই পুরনো বিল্ডিঙগুলোকে ভুগতে হ’চ্ছে বড্ড বেশি।

আমি এটাকে অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচনা করতে চাই। আমাদের শহরের রাস্তার ম্যানেজমেন্ট নিয়ে আমরা মোটামুটি হতাশই হ’য়ে পড়েছি। আর তাই আমাদের কাছে নতুন ক’রে কেউ বিল্ডিং বানাতে আসলে তারা সাধারণত তাদের বিল্ডিঙের প্লিন্থ লেভেলটা একটু বাড়তি উঁচু ক’রতে বলেন। আমরা সেটা করতে বাধ্যও হচ্ছি। রাজউকের ড্রয়িঙে বলে দিচ্ছি রাস্তার সর্বোচ্চ বিন্দু থেকে বিল্ডিঙের প্লিন্থের উচ্চতা, আর সেটা বিধির ভেতরে থেকে যতটা উঁচু করা যায় তার সর্বোচ্চটাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে।

মুশকিলের ব্যাপার হ’লো রাস্তার সর্বোচ্চ বিন্দু সদা পরিবর্তনশীল। রাজউক বা দেশের আর কোনো অথরিটি কখনো এটা নির্দিষ্ট ক’রে দেয়নি। এটা নির্দিষ্ট ক’রে দেয়াটা খুব দরকার এই মুহূর্তে। রাস্তার রিপেয়ার দরকার হ’লে নিচের লেয়ার বা স্তরের বিটুমিন তুলে নতুন স্তর তৈরী করা হোক, যাতে রাস্তার উচ্চতা বেড়ে না যায়।

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক বল টেম্পারিং প্রসঙ্গে

হ্যাঁ পিটারসন, অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়েরা হয়তো কোনো ফৌজদারি অপরাধ করেনি, আর তাই তাদেরকে গারদে পাঠানো হ’লো না – এটা ফৌজদারি আইনের সীমাবদ্ধতা মাত্র। স্মিথ, ওয়ার্নার, ব্যানক্রফট, লেম্যানেরা যা ক’রেছে তা খেলোয়াড় হিসেবে চরম অপরাধ- খেলোয়াড়ি চেতনার সাথে চরম অবমাননা।

স্মিথ, আপনি ক্রিকেট খেলাকে ভালোবাসেন এই চরম মিথ্যাটা নাকের পানি চোখের পানি ঝরিয়ে আমাদেরকে বলবেন না। আমরা খেলাটাকে ভালোবাসি ব’লেই জীবনের সমস্ত ব্যস্ততা, সংগ্রাম, প্রেমিকার অনুযোগ পাশে সরিয়ে রেখে খেলা দেখতে বসি টিভির স্ক্রিনে, তার সুযোগ না থাকলে ক্রিকইনফোর লাইভ আপডেটে। আমরা আপনাদেরকে নিয়ে পত্রিকার লেখা পড়ি। চায়ের দোকানে বন্ধুদের সাথে আলোচনা ক’রে কাটাই আগামীর কোনো খেলা নিয়ে, কিমবা অতীতের কোনো খেলা নিয়ে। আমরা দিনের পর দিন ক্রিকেটের পরিসংখ্যানে বুদ হ’য়ে থাকি।

এর প্রধান কারণ ক্রিকেট খেলাটাকে আমরা ভালোবাসি। জানি আমরা নিজেরা হয়তো ভালো খেলোয়াড় নই, তবু ক্রিকেট আমাদের বিনোদন। আমরা কোটি কোটি মানুষ এই খেলাটাকে ভালোবাসি ব’লেই এটা আপনাদের পেশা হ’তে পেরেছে। আপনারা যদি ভেবে থাকেন আপনাদের প্রতারণার কৌশল আমাদেরকে মুগ্ধ করে, সে আপনাদের চরম মূর্খতা। জীবনে আমাদের অনেককেই অনেক অনৈতিক কাজ করতে হয়, কিন্তু তার প্রতি আমাদের ভালো লাগা নেই ব’লেই খেলাটাকে আমরা এতটা আপন ক’রে ভাবতে পারি। তাতে কোনো ধরণের প্রতারণা ঢুকে যাক তা মানতে পারি না।

ক্রিকেটের প্রতি আপনাদের ভালোলাগা-ভালোবাসা থেকে থাকলে আপনারা লুকিয়ে লুকিয়ে খেলুন- নিজেদের বাড়ির উঠানে খেলুন- আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আমাদের ভালোবাসার সাথে যারা প্রতারণা করেছে তাদের কোনো ক্ষমা নেই। তবে সহানুভূতি আছে। জীবনে ক্রিকেটই সব নয়, কিমবা খেলাতে জেতাটা। এটা আমরা জানি, আপনারাও জানুন- সেটা চাই।

আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন, আমাদের যার যার প্রিয় দলটা যতই ভালো বা খারাপ খেলুক, আমরা সমর্থকেরা কিন্তু সব সময়ই দলের সাথে থেকেছি। দল জিতে গেলে আমরাই জিতেছি ভেবেছি, আবার হারলে আমরাই হেরেছি ভেবেছি। আপনাদের সমর্থকদেরকে প্রশ্ন ক’রে দেখুন, আপনাদের প্রতারণা করাটাকে নিজদের করা প্রতারণা ব’লে কেউ মানবে কিনা। আমার মনে হয় না।

আমরা দর্শকেরা দেখি ব’লেই আপনাদের খেলার বাজার-মূল্য আছে। আমরাই আপনাদের খেলার জন্য এতএত মাঠ গ’ড়ে তুলি। মাঠে বড়বড় গ্যালারী বানাই। সেখানে বসে আমরা শুধু খেলাটাই দেখতে চাই। খেলাতে জয়ের স্পৃহা আমাদেরকে আপ্লুত করে, মুগ্ধ করে। ক্ষিপ্র শরীরিভাষা আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। জানি সমর্থন একটি রাজনৈতিক বিষয়। আমাদের সমর্থন তাই হয়তো ভিন্ন ভিন্ন দলের প্রতি। কিন্তু খেলাটার প্রতি আমাদের সবার আবেগ একই রকম – আশা ক’রি এটা ভুলে যাবেন না।

যাপিত জীবন – ৩২


রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ , আপনি সেই ১৯৮১ সালে লিখেছিলেন,

“কোনো কথা নেই-কেউ বলে না, কোনো কথা নেই-কেউ চলে না,
কোনো কথা নেই-কেউ টলে না, কোনো কথা নেই-কেউ জ্বলে না-
কেউ বলে না, কেউ চলে না, কেউ টলে না, কেউ জ্বলে না।

যেন অন্ধ, চোখ বন্ধ, যেন খঞ্জ, হাত বান্ধা,
ভালোবাসাহীন, বুক ঘৃনাহীন, ভয়াবহ ঋন
ঘাড়ে চাপানো-শুধু হাঁপানো, শুধু ফাঁপানো কথা কপচায়-
জলে হাতড়ায়, শোকে কাতরায় অতিমাত্রায় তবু জ্বলে না।”

আবার যেন তেমন সময় এসেছে। তার উপর এসেছে কথা বলার উপর খড়গ। ৫৭ ধারা। মিথ্যেকে মিথ্যে বলা যাবে না। বিজ্ঞানের কথা প্রচার করা যাবে না। সবাই এখন তাই বড্ড চুপচাপ। কিন্তু স্বভাব দোষে বাঙালিকে কিছু কথা বলতেই হয়। সে কথা তাই কাজের কথা নয় কোনো। বাজে কথাই বেশি। যেটুকু কাজের কথা হচ্ছে তাতে ভুলে ভরা। কারণ খুব সহজ। ভুল ধরিয়ে দেওয়া লোকেরা বেশিরভাগই জীবন নিয়ে পালিয়েছে। আর যারা পালাতে পারেনি তারা কথা বলা ছেড়ে দিয়েছে।
আমাদের তাই আজকাল কোনো গল্প নেই। কোনো কবিতা নেই। কেউ কেউ হয়তো স্থূল কিছু ছড়া কাটেন কখনো কখনো। শ্রোতারা নিশ্চিত জানেন তার কোনো অর্থ নেই। তাই তা মনে রাখার বা আর একবার শোনার চেষ্টাও নেই। প্রাচীনকাল বা মধ্যযুগের পুথিও বাঙালি বারবার শুনতো। এযুগের ছড়া কেউ শুনতে চায় না। এযুগে কেউ গানও বাধতে চায় না। শেষ কবে আইয়ুব বাচ্চু কোনো নতুন গান বানিয়েছেন আমরা জানি না। গত ৮/১০ বছরে জনপ্রিয় হয়েছে এমন একটা বাংলা-গানের কথা মনে করতে পারি না। গান গেয়ে যারা জীবন নির্বাহ করেন তারা গান ছেড়ে দিতে পারেন-এটা মানা যায় এই পাইরেসির যুগে। কিন্তু শখের বসেও কেউ গান বাধছেন না-এটা মানতে কষ্ট হয়। সঞ্জীব চৌধুরী মরে গেছেন জানি। তবুও। সঞ্জীব দা, এই থমকে থাকা বাতাস আমাদের কারো ভাল লাগছে না… আমরা সবাই যেন মরে গিয়েও বেঁচে আছি।
অথবা আমরা সবাই একসাথে যেন কোনো মরণ-ব্যাধীতে ভুগছি। আমাদের তাই কোনো কথা নেই। আমাদের আজ ডিক্টেশন ছাড়া কথা বলা মানা। ডিক্টেশন ছাড়া কিছু করা মানা। সেসব ডিক্টেশন যে কারা দেয়- সে প্রশ্ন করা মানা। আমাদেরকে খুশি হ’তে বলা হচ্ছে। আমাদেরকে খাজনা দিতে বলা হচ্ছে। আমরা খুশি হচ্ছি, খাজনা দিচ্ছি। আমাদের খাজনার টাকা কোথায় যাচ্ছে তা জানতে চাওয়া যাবে না। আমাদের সঞ্চয়ের টাকা ব্যাংক থেকে চুরি হয়ে যায়। আমরা তবুও অস্থির হ’তে পারি না। চোর যে এখনো পুরোটা চুরি করেনি!

প্রবচন – ২৫

১.
বিশেষ কোনো একজন ব্যক্তি একটা জায়গায় হেগেছিল, মুতেছিল, সেক্স করেছিল, বাচ্চা পয়দা করেছিল বা মরে গিয়ে পচে গিয়ে পোকামাকড়ের খাবার হয়েছিল ব’লে জায়গাটা পবিত্র হ’য়ে উঠেছিল – এমন আইডিয়ার গূঢ় ব্যাপারটা আজো বুঝে উঠতে পারলাম না, শুধুমাত্র বিপুল সংখ্যক মানুষকে বোকা বানাতে সফল হওয়ার ব্যাপারটা ছাড়া।

২.
যে প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক মতো কাজ করেনি তাকে বিলুপ্ত বা পরিবর্তীত না করলে তারা পরবর্তীতে আরো বড়সড় ক্ষতি ডেকে আনে। যেমনটা আনছে বর্তমানের বেশ কিছু ব্যাংক। যেমনটা এনেছিল বেশ কিছু সরকারী পাটকল, চিনিকল, কাপড়কল বা অন্য ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলো।

৩.
ইয়াসমিনের ধর্ষণ আর হত্যার মামলার বিচারের রায় কর্যকর করা হয় ২০০৪ সালে। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৪ সাল। আট বছরের কিছু বেশি সময়। ইয়াসমিনের হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সে মৃত্যুর বিচার হয়েছে কিনা জানা হয়নি। ১৯৯৮ সালে খুন হওয়া শাজনীনের হত্যা-মামলার রায় কর্যকর হয়েছে ২০১৭ সালের নভেম্বরে। শাজনীনের বাবা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী। তারপরও বিচার পেতে সময় লেগে গিয়েছে ১৯ বছর। যে বিচার ব্যবস্থায় বিচার পেতে এতটা সময় লাগে তাকে নিয়ে উপহাস না করাটাই তাকে এক ধরণের অবমাননা করা।

এরশাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ সে সেনাপ্রধান হয়েও সরকারী ক্ষমতা দখল করেছিল। আমাদের বিচার ব্যবস্থা এই অপরাধের জন্য এরশাদকে কখনো বিচারের মুখোমুখিও করেনি। ধিক সেই বিচার ব্যবস্থাকে। ধিক সেই বিচার ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা লোকগুলোকে।

আমরা ব’লতে পছন্দ করি যে, যেই যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবন। বাংলাদেশে যেই সরকার গঠন করে সেই লুণ্ঠনকরী হয়ে ওঠে। অথচ ৬০/৭০ জন মন্ত্রী বা ক্ষমতাশালী লোক আর কতটা লুণ্ঠন করতে পারে? যাও বা পারে সে সরকারী কর্মচারীদের বদৌলতে। আমাকে তো পুলিশকে ঘুম দিতে হয়েছে পাসপোর্ট করতে গিয়ে। রাজউকে ঘুষ দিতে হয়েছে ড্রয়িং জমা দিয়ে। একবার ঢাকা বোর্ড থেকে সার্টিফিকেট তুলতে গিয়েও ঘুষ দিতে হয়েছে। বিচার ব্যবস্থা কয়টা সরকারী কর্মচারীকে বিচারের মুখোমুখি করেছে?

অভিজ্ঞতায় জানি মফস্বলের খুব কম বিচারকই ঘুষের লেনদেন করেন না। বছরের পর বছর ধরে এটা চলে আসছে। আদালত কতজন বিচারককে বিচারের মুখোমুখি করছেন এই বাংলাদেশে?

বিচার পেতে সময় লাগে অনেক। তার উপর অনেক আইনই বৈষম্য সৃষ্টির কারণ। যেমন সম্পত্তি হস্তান্তর আইন। আয়কর আইন। বৈষম্য সৃষ্টিকারী আইন কোনো আইন হতে পারে না। একে অসম্মান করাটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। একে প্রতিরোধ করাটা আমাদের কর্তব্য। আমাদেরকে বলতেই হবে এইসব আইনে পরিবর্তন আনতে হবে। এই বিচার ব্যবস্থা অসুস্থ। একে পালটাতে হবে। বিচার পেতে এত সময় লাগতে দেওয়া যাবে না।

বিচারের এই দীর্ঘসূত্রীতা এতদিন শুধু উকিল, মোক্তার আর বিচারকদের বিত্ত-বৈভবই বাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশে দাড়িয়েছে কমই। এই বিচার ব্যবস্থা আর আইনকে অসম্মান না করাটা প্রকারন্তরে নিজেদেরকেই অসম্মান করা।

৪.
মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও যে লোকগুলো অমরত্বের প্রলোভন দেখিয়েছিল মানবসমাজকে, তাদের স্মৃতিই বয়ে বেড়ায় অভাগা অনুসারীরা।